বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক তুঙ্গে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি বিরোধীদের।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দলগুলির একযোগে দাবি - এই মন্তব্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিরোধীদের মতে, ট্রাম্পের একের পর এক মন্তব্যে ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত নিশ্চুপ।
এই নীরবতাকে বিরোধীরা সরাসরি দুর্বলতা, আত্মসমর্পণ এবং ব্যর্থ কূটনীতির প্রতিফলন বলে আখ্যা দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিজেপির বহুল প্রচারিত স্লোগান - 'মোদি বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত নেতা', ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যে কার্যত ভেঙে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া না আসায় সেই প্রচারের ফাঁপা বাস্তবতাই সামনে চলে এসেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, "হোয়াইট হাউসে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' ভারতের ক্ষেত্রে কখনও গরম, কখনও ঠান্ডা নীতি নিচ্ছেন। 'নমস্তে ট্রাম্প', 'হাউডি মোদি', সেই সব জোর করে আলিঙ্গন - এসব নাটক ভারতের কোনও কাজে আসেনি।" জয়রাম রমেশের অভিযোগ, মোদি সরকার বিদেশনীতিকে কূটনৈতিক কৌশল নয়, বরং ইভেন্ট, ফটো-অপ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রদর্শনীতে নামিয়ে এনেছে। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, দেশের সম্মান যখন বারবার খর্ব হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব? এই নীরবতা কি জাতীয় স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি?
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, "এটা আরেকটি অপমান। তবু প্রধানমন্ত্রী মোদি উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সাহস দেখাবেন না। ট্রাম্পের সামনে শুধু কাপুরুষোচিত নীরবতা।" সাকেতের অভিযোগ, "বিরোধী দল ও সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করতে মোদি ও তাঁর মন্ত্রীরা চিৎকার করতে ওস্তাদ। কিন্তু বিদেশি নেতার সামনে এলেই সেই গলা হঠাৎ শুকিয়ে যায়।"
বিরোধীদের মতে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের বিদেশনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং জাতীয় মর্যাদা। অথচ সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা না করে সরকার এড়িয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং দেশবাসীর সামনে সরকারকে জানাতে হবে, এই মন্তব্যের কূটনৈতিক অর্থ কী এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থরক্ষায় কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
