এখনই ২৪, আকবর রোডে সদর দপ্তর খালি করতে হচ্ছে না কংগ্রেসকে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে শনিবারের মধ্যে হাত শিবিরের ওই দপ্তর খালি করার নোটিস পাঠানো হলেও, সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। সূত্রের খবর, নোটিস পাওয়ার পর সরকারের মাথাদের সঙ্গে ওই দপ্তর ধরে রাখার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে কংগ্রেস। তাতেই সাময়িক স্বস্তি মিলেছে।
সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের জন্য ২৪ আকবর রোডের ঐতিহাসিক বাড়িটি নিজেদের হাতে রাখার অনুমতি পেয়েছে কংগ্রেস। তবে সেটা অস্থায়ী বন্দোবস্ত। স্থায়ীভাবে ওই দপ্তর হাতে রাখার জন্যও বিকল্পের সন্ধান চলছে। শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ওই বাড়িটি দলের কোনও শীর্ষ নেতার নামে বরাদ্দ করিয়ে দিতে চাইছে হাত শিবির। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বাংলো সাধারণত কোনও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামে বরাদ্দ করা হয়। সেক্ষেত্রে কমল নাথ বা অশোক গেহলটের নাম ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আপাতত ওই ঐতিহাসিক বাড়ি ছাড়তে হবে না হাত শিবিরকে। তবে যুব কংগ্রেস দপ্তর খালি করতেই হবে।
চল্লিশ বছর ধরে ২৪, আকবর রোডে সদর দপ্তর থেকে কাজ চালাচ্ছে কংগ্রেস। এক সময়ে কংগ্রেসের সদর দপ্তর ছিল যন্তরমন্তর রোডে। ইন্দিরাগান্ধী কংগ্রেস ভেঙে কংগ্রেস (ই) তৈরির পরে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে তাঁর অনুগামীরা চব্বিশ আকবর রোডের একটি বাংলোতে কাজ শুরু করেন। পরে এটিই কংগ্রেসের সদর দফতর হয়ে ওঠে। দলের মূল সদর দপ্তর ছাড়াও সেখানে রয়েছে কংগ্রেস সেবা দলের কার্যালয়, ৫, রাইসিনা রোডে যুব কংগ্রেসের অফিস এবং CII, ১০৯, চাণক্যপুরীর একটি আবাসন।
আকবর রোড খালি করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ আসছিল কংগ্রেসের উপর। ২০১০ সালে নতুন সদর কার্যালয় তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল কংগ্রেসকে। বলা হয়েছিল, আকবর রোডের সদর দপ্তরটি ৩ বছরের মধ্যে সেখানে স্থানান্তরিত করতে হবে। সেইমতো ২০১৩ সালেই ২৪, আকবর রোডের বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার কথা। তবে তখন তা কার্যকর হয়নি। উনিশের ভোটের আগেও একবার শোনা গিয়েছিল কংগ্রেস নতুন ঠিকানায় সরবে। সেটাও হয়নি। এবারও হল না। এসবের মধ্যে দলের নতুন কার্যালয় তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে পুরনো দপ্তর হাতছাড়া করতে নারাজ হাত শিবির।
