চারবার চেষ্টা করেও মেলেনি ক্রেতা। অবশেষে নিলামে বিক্রি হল আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সম্পত্তি। তবে ক্রেতা মিললেও নিলামে বেশি দাম উঠল না দাউদের ওই সম্পত্তিগুলির।
বৃহস্পতিবার ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড পলাতক ডনের মোট চারটি সম্পত্তি নিলাম করে ‘স্মাগলার্স অ্যান্ড ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানিপুলেটর্স (ফরফিচার অব প্রপার্টি) অথরিটি’। ওই সম্পত্তিগুলি ২০১৭ সাল থেকে চারবার নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কোনওবারই সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে বারবার সম্পত্তিগুলির দাম কমাতে হয়। শেষবার ২০২৪ সালে ৩০ শতাংশ দাম কমিয়ে নিলামে তোলা হয়েছিল, তাতেও ক্রেতা মেলেনি। শেষে এবার সংরক্ষিত দাম আরও কমিয়ে সম্পত্তিগুলি নিলামে তোলা হয়। এই নিলাম করা হয়েছে স্মাগলার্স অ্যান্ড ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানিপুলেটরস অ্যাক্ট (SAFEMA)-এর অধীনে।
দাউদ এবং তাঁর পরিবারের অবিক্রিত চারটি কৃষিজমি রয়েছে মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার মুম্বাকে গ্রামে। ওই গ্রামের বাড়িতেই তার শৈশব কেটেছিল। মোট চারটি জমি নিলামে তোলা হয়েছিল। যেগুলির বাজারমূল্য অনেক বেশি হলেও সেগুলির সংরক্ষিত মূল্য অনেক কম রাখা হয়েছিল। ‘সার্ভে নম্বর ৪৪২ (পার্ট ১৩-বি)’ হিসেবে চিহ্নিত জমিটি বিক্রি হয় ১০ লক্ষ টাকায়। এই জমির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ৯.৪১ লক্ষ টাকা। সার্ভে নম্বর ৫৩৩, ৪৫৩ এবং ৬১৭-এর জমিগুলির দাম আরও কম। এই জমিগুলির সংরক্ষিত মূল্য ছিল যথাক্রমে ২.৩৩ লক্ষ, ৮.০৮ লক্ষ এবং মাত্র ১৫,৪৪০ টাকা। প্রথমটি বাদে বাকি সব জমিই সংরক্ষিত মূল্যে বিক্রি হয়েছে। মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ী সম্পত্তিগুলি কিনেছেন। আসলে দাউদের সম্পত্তি বলে ভয়ে ওই জমিতে কেউ আগ্রহ দেখাননি। মাত্র দু'জন জমি কেনার আগ্রহ দেখান। ফলে দাম ওঠেনি।
এর আগে ২০১৭ সালে নিলাম হয়েছিল মুম্বইয়ের ভেন্ডি বাজারের কাছে দাউদের বাড়িটি। আটের দশকে ভারত ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত সেখানেই থাকত কুখ্যাত ডন। এর আগেও দাউদের অনেক সম্পত্তি নিলামে উঠেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই মেলেনি ক্রেতা। প্রশাসনের একাংশের মতে, মাফিয়ার রোষে পড়ার ভয়েই বার বার পিছিয়ে গিয়েছেন ক্রেতাদের একাংশ।
