ঠিক যেমনটা চাইছিলেন না হিমন্ত বিশ্বশর্মা, তেমনটাই হতে চলেছে অসমে। এমনিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-একের পর এক দলত্যাগে বিদ্ধ অসম কংগ্রেস। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কতটা লড়াই হাত শিবির হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে দিতে পারবেন তাই নিয়েই তৈরি হচ্ছিল সংশয়। সেই সংশয়ের মধ্যেই এবার মাস্টারস্ট্রোক দিল হাত শিবির। অসমের ভূমিপুত্রদের দল রাইজোর দলের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত করে ফেলল কংগ্রেস।
বেশ কিছুদিন ধরেই রাইজোর দল এবং অসম কংগ্রেসের মধ্যে আসনরফা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। শুরু থেকে অখিল গগৈয়ের দাবি ছিল অন্তত ১৫টি আসন। কংগ্রেস ৮-৯টি আসন ছাড়তে রাজি ছিল। যার ফলে আসনরফা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনকী রাইজোর দলের প্রধান অখিল গগৈ কংগ্রেস নেতাদের নিশানা করে বিবৃতিও দেন। কিন্তু পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায় কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুত বরদলুই দলত্যাগ করার পর। প্রদ্যুতের দলত্যাগে দুর্বল কংগ্রেস সমঝোতায় আরও নমনীয়তা দেখায়। তাঁরা অখিল গগৈর দলকে ১১ আসন ছাড়তে রাজি হয়ে যায়। আরও দুই আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে 'বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই' হবে রাইজোর দলের।
বৃহস্পতিবার রাতে জোড়হাটে গৌরব গগৈয়ের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে জোট ঘোষণা করেছেন দুই নেতা। অখিল গগৈ স্পষ্ট জানিয়েছেন, গৌরবকে মুখ্যমন্ত্রী করতে প্রাণপণ লড়বেন তিনি। রাইজোর দল এবং কংগ্রেস এক ছাতার তলায় আসাটা বিজেপির জন্য মোটেই সুসংবাদ নয়। এই জোট হিমন্ত বিশ্বশর্মার রক্তচাপ বাড়াতে পারে। কারণ এর ফলে অসমের দুই অহমিয়া দল রাইজোর দল এবং অসম জাতিয় পরিষদ চলে এল কংগ্রেসের ছাতার তলায়।
এর ফলে অসমের সমীকরণ অনেকটা বদলে যাবে। আসলে সে রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম। যদিও এই মুসলিম জনসংখ্যা ২৬টি আসনে সীমাবদ্ধ। আগে এই ভোটটা কংগ্রেস এবং বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যেত। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে আজমলের দল কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়েছে অসমে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এখনও সে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি কংগ্রেসের পক্ষে। সেই সঙ্গে এবার কংগ্রেসের নজর অহমিয়া ভূমিপুত্রদের ভোটে। এই ভোটটা অসম গণ পরিষদের দৌলতে বিজেপির পক্ষে পড়ছে। কিন্তু অসম জাতিয় পরিষদ, রাইজোর দল কংগ্রেসের সঙ্গে চলে আসা এবং গৌরব গগৈকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করে এগোনোয় অসমের এই ভূমিপুত্রদের ভোটটা কংগ্রেসের দিকে চলে আসতে পারে। সেটা হলে খেলা সত্যিই ঘুরতে পারে অসমে।
