shono
Advertisement
gas crisis

গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়ছে, মেনে নিল মোদি সরকার, একযোগে 'তোপ' ইরান-ইজরায়েলকে!

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়া থেকেও এলপিজি কেনা হবে, জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 10:00 AM Mar 20, 2026Updated: 10:43 AM Mar 20, 2026

দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে আতঙ্কের আবহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, ধীরে ধীরে 'প্যানিক বুকিং' কমতে শুরু করেছে এবং এখন অধিকাংশ গ্রাহক অনলাইনে বুকিং করছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এলপিজি সরবরাহে চাপ পড়েছে বলে স্বীকার করেছে মোদি সরকার। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়া থেকেও এলপিজি কেনা হবে। পাশাপাশি ইরান এবং ইজরায়েলকে একযোগে নিশানা করে জয়সওয়াল বলেন, জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা অগ্রহণযোগ্য।

Advertisement

বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের বড় ধরনের ঘাটতি নেই। বরং গুজব ও আতঙ্কের কারণে হঠাৎ করেই বুকিং বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গত কয়েক দিনে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারগুলিকে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুক করার আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারের মতে, বর্তমানে মোট বুকিংয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রায় ৯৪ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে।

তবে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মোদি সরকারের অন্দরে আশঙ্কা থাকছেই। জয়সওয়াল বলেন, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অস্থিরতার কারণে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ইতিমধ্যেই প্রভাবিত হয়েছে। নতুন করে গ্যাস উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলির উপর হামলার ফলে ভারতের এলএনজি আমদানিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ভারত ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা করছে। আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশ থেকে এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা করছে। প্রয়োজন হলে রাশিয়া থেকেও এলপিজি কেনা হবে। কারণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

ইরান-ইজরায়েল দুই দেশকে নাম না করে আক্রমণও করেছে ভারত। রণধীর বলেন, জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হলে তা শুধু ওই অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্র সাউথ পার্সে হামলা চালায় ইজরায়েল। হামলার পরেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এবার তারা পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল এবং গ্যাস উত্তোলনকেন্দ্রগুলিকে নিশানা করে হামলা চালাবে। তারপরেই কাতারের রাস লাফরান শিল্পতালুকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তার জেরে বিশ্বে বাড়ছে জ্বালানি সংকট।

 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement