সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১৬-র সার্জিক্যাল স্ট্রাইকই প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। বলছেন ২০১৬ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের নায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিএস হুদা। তাঁর নেতৃত্বেই পাক সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল ভারত। গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা জঙ্গিঘাঁটি। ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় নর্দার্ন আর্মি কম্যান্ডের শীর্ষে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিএস হুদা। তিনি বলছেন, এই প্রথম নয়, এর আগের সরকারের আমলেও একাধিকবার পাক সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছে ভারত।
[আরও পড়ুন: ‘কর্মফলের জন্য প্রস্তুত হন মোদিজি’, বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করায় শ্লেষ রাহুলের]
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে যেভাবে রাজনীতি হচ্ছে তাঁর বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন সেনা আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘সেনাকে নিয়ে রাজনীতি করা কখনওই উচিত নয়। এভাবে চলতে থাকলে সেনার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সুদুরপ্রসারী ক্ষতি হয়ে যাবে।’ ডিএস হুদা বলেন, “নরেন্দ্র মোদিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নন, যার আমলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে। বরং কংগ্রেসের শাসনকালেও শত্রুদেশের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ করেছে সেনাবাহিনী।”
[আরও পড়ুন: ‘আপনার বাবা পয়লা নম্বর দুর্নীতিগ্রস্ত’, উত্তরপ্রদেশের সভায় রাহুলকে খোঁচা মোদির]
উল্লেখ্য, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় সম্প্রতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। সাক্ষাৎকারে মনমোহন সিং বলেন, ”আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের সেনাকে সবসময় পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া থাকে সমস্তরকম হামলার জবাব দেওয়ার জন্য। আমাদের সময়ও অনেক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছিল। আমাদের জন্য, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ভারত-বিরোধী শক্তিগুলিকে মোক্ষম জবাব দেওয়ার অস্ত্র। আমরা কখনই এই সাফল্যকে ভোটের ময়দানে কাজে লাগাতে চাইনি।” মনমোহনের এই সাক্ষাৎকারের পরই কংগ্রেস ইউপিএ আমলে হওয়া ৬টি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। যদিও, কংগ্রেসের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কোনও ভিডিও গেম নয়। কংগ্রেস আমলে কোনও স্ট্রাইক হয়নি।” নর্দার্ন কম্যান্ডের প্রাক্তন প্রধান অবশ্য মোদির দাবি উড়িয়ে কংগ্রেসের দাবিতেই সিলমোহর দিয়েছেন।
