২০২০ সালে দিল্লি ভয়াবহ হিংসা চলাকালীন খুন হয়েছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। সেই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। ঘটনার ৬ বছর পর অবশেষে সেই হত্যাকাণ্ডে তাহিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। সাজা ঘোষণার সময় আদালতের তরফে বলা হয়েছে, 'সীমাহীন নৃশংসতা চালানো হয়েছিল সেদিন।'
শুক্রবার সাজা ঘোষণা সময় দিল্লির করকরডুমা আদালত বলেছে, “অপরাধের ধরণ ছিল চরম নৃশংস।” আদালত আরও জানায়, “খুন করেই বর্বরতা শেষ হয়নি। অঙ্কিতের দেহটি কাছের একটি নর্দমায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপরাধীদের ঘৃণা তখনও মেটেনি। এই অপরাধ বিরলতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। যা সমস্ত ভয়াবহতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।” যদিও হুসেনের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের পক্ষ নিয়ে জানান, হুসেন কেবল ভিড়ের অংশ ছিলেন, অপরাধের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও যোগ ছিল না। ফলে এই রায়ের পালটা উচ্চ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আদালত জানিয়েছে, “খুন করেই বর্বরতা শেষ হয়নি। অঙ্কিতের দেহটি কাছের একটি নর্দমায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপরাধীদের ঘৃণা তখনও মেটেনি।"
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ আইনের প্রতিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল উত্তর-পূর্ব। অল্প সময়ের মধ্যেই দাঙ্গার আগুনে জ্বলে ওঠে দেশের রাজধানী। সেই হিংসার কবলে পড়েছিলেন ২৬ বছরের আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। তাঁর উপর হামলা চালায় দাঙ্গাকারীরা। ছুরি, লাঠি, রড ও পাথর দিয়ে আক্রমণ করা হয় তাঁর উপর। নৃশংসভাবে হত্যা করার পর দেহটিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে নর্দমায় ছুড়ে ফেলা হয়। পরদিন নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় অঙ্কিতের দেহ। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ৫১টি চুরির আঘাত পাওয়া যায়।
এদিকে রায় ঘোষণার পর দিল্লির আইনমন্ত্রী কপিল মিশ্র এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'তাহিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ন্যায়বিচারের সূচনা। যে নৃশংসতার সঙ্গে অঙ্কিতকে হত্যা করা হয়েছে। এবং মৃত্যুর পর ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে তাঁর দেহ নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে এটি বিরলতম ঘটনা। আশা করব হাই কোর্ট এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তরিত করবে।'
