ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বাংলায় রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি বাড়ছে দ্রুত। রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাংলার রেলের সম্প্রসারণ ও বাজেট বরাদ্দের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরে সংসদে পেশ করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলেমন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের রাজ্য রেল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৩৮০ কোটি, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা করা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি। যা আগের বরাদ্দের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।
সংসদে পেশ করা খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫ হাজার ১৪৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৬৩টি রেল প্রকল্পের কাজ অনুমোদন করা হয়েছে। যায় সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। ৬৩ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে - ১৪টি নতুন রেললাইন নির্মাণ, ৪টি গেজ রূপান্তর প্রকল্প, ৪৫টি ডবলিং বা ট্র্যাক দ্বিগুণ করার কাজ। ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৭২১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের কাজ সম্পন্ন ও কমিশনিং করা হয়েছে। যার জন্য ব্য হয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা।
যে রেলপ্রকল্পগুলি সম্পন্ন হয়েছে- রামপুরহাট-মান্দারহিল ১৩০ কিমি নতুন লাইন, আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ ৭ কিমি নতুন লাইন, বর্ধমান-কাটোয়া ৫২ কিমি গেজ পরিবর্তন এবং আহমেদপুর-কাটোয়া ৫২ কিমি গেজ পরিবর্তন। পাশকুড়া-খড়গপুর ৪৫ কিমি ডবলিং, অম্বারি ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি ৩৮ কিমি, ব্যান্ডেল-বৈঁচি ৩১ কিমি ৩য় লাইন এবং মনিগ্রাম-নিমতিতা ২৪ কিমি ডবলিং হয়েছে।
বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে যে রেল প্রকল্পগুলি- সেবক-রংপো নতুন লাইন, তারাকেশ্বর-বিষ্ণুপুর, বালুরঘাট-হিলি এবং কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুরের নতুন লাইনের নির্মাণকাজ জারি রয়েছে। খড়গপুর-আদিত্যপুর ১৩২ কিমি ৩য় লাইন, নারায়ণগড়-ভদ্রক ১৫৩ কিমি ৩য় লাইন, সাঁতরাগাছি-খড়গপুর ১১১ কিমি চতুর্থ লাইন এবং আলুয়াবাড়ি রোড-নিউ জলপাইগুড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
২০২৬ সালের মে মাস থেকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির পর জমি অধিগ্রহণের কাজও এগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বেশকিছু প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে। রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরের 'টাস্ক ফোর্স' গঠন করা হয়েছে।
