পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম। দেশে তার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমাল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। এর ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি শুল্ক কমে হল ৩ টাকা, অন্যদিকে ডিজেলের উপর কোনও শুল্কই রইল না। প্রশ্ন হল, এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কতটা উপকৃত হবে আমজনতা?
যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তত বাড়ছে জ্বালানি সংকট। ইতিমধ্যে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়িয়েছে একটি সংস্থা। গতকাল নায়ারা এনার্জি ঘোষণা করেছে, প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে পেট্রোলের। ডিজেলের দাম বাড়ছে প্রতি লিটারে ৩ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকেই যা কার্যকর হয়েছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় সিদ্ধন্ত নিল কেন্দ্র। শুক্রবার থেকেই পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমাল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
যদিও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই শুল্ক হ্রাসের ফলে অধিকাংশ ভোক্তার জন্য জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। কারণ বিশ্ববাজার থেকে অতিরিক্ত দামে কেনা তেল এতদিন সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে পুরনো দামেই বিক্রি হচ্ছিল পাম্পগুলিতে। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুল্ক হ্রাসের সিংহভাগ সুবিধা নেবে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়ায়েছে। এই অবস্থায় দেশের জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি) বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলে ৪৮.৮ টাকা করে লোকসান করছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এবার কেন্দ্রের শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতিই পুষিয়ে নেবে তারা।
