জেন জি প্রতিবাদের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। সংসদেও ঝাঁজালো বক্তব্য-পালটা জবাব পেশ হয়েছে এই 'জেন জি'কে নিয়ে। শাসক থেকে বিরোধী-সব দলই নিজেদেরকে তরুণ প্রজন্মের জন্য 'আদর্শ' হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছে। আর সেটা করতে গিয়েই নানা দলের সাংসদরা ব্যবহার করেছেন বহু শব্দ, যা কিনা জেন জি সমাজে 'লিঙ্গো' বলে পরিচিত। ফোমো, ডেলুলু, ক্লক ইট-এহেন নানা শব্দে ভরে উঠেছে লোকসভা।
নিটের প্রশ্নফাঁস হওয়ার জেরে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছিলেন পড়ুয়া এবং যুবসমাজ। বিরোধীদের অনেকেই এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সংসদ ভবন অভিযানের পর থেকে আন্দোলনের আঁচ পৌঁছে যায় রাজনীতির অন্দরে। প্রশ্নফাঁস রুখতে পেশ হয় পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। সেই বিল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জেন জি ভাষা ব্যবহার করলেন বিজেপি সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ থেকে কংগ্রেস সাংসদ দিপিন্দর সিং হুডা সকলেই।
শিব সেনা (শিণ্ডে শিবির) সাংসদ শ্রীকান্ত শিণ্ডে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিরোধীরা আসলে MIA(মিসিং ইন অ্যাকশন), অর্থাৎ কাজের সময়ে তাঁদের দেখা মেলে না। শ্রীকান্ত আরও বলেন, বিরোধীরা FOMO(ফিয়ার অফ মিসিং আউট)তে ভুগছেন, অর্থাৎ একটা বড়সড় কিছু ঘটছে অথচ বিরোধীরা তাতে পাত্তা পাচ্ছেন না। বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য বলেন, বিরোধীরা ডেলুলুতে ভুগছেন। এই 'ডেলুলু' শব্দটি 'ডেলিউশন' কথাটির জেন জি রূপ, যার অর্থ ভ্রমের মধ্যে ডুবে থাকা। তেজস্বী বলতে চেয়েছেন, বিরোধীরা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বসে রয়েছেন।
এনসিপি (উদ্ধব শিবির) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও অবশ্য এই ডেলুলু শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সরকারকে বিঁধতে গিয়ে দিপিন্দর বলেন waste-guna-huiya। এই শব্দের প্রকৃত অর্থ নেই। তবে পড়ুয়াদের আন্দোলনে বহুবার এই কথাটি ব্যবহার হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরক্তির সেই বার্তা পৌঁছে দিতেই এই কথাটি ব্যবহার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। নরেন্দ্র মোদি সরকার যেভাবে প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছেন, সেটাকে বাহবা জানাতে গিয়ে বাঁশুরী ব্যবহার করেন 'clocked it' শব্দটি। এই কথার অর্থ, কোনও ভুল চিহ্নিত করে সেটা শুধরানোর ব্যবস্থা করা। সবমিলিয়ে, জেন জি প্রভাব স্রেফ দেশে নয়, সংসদেও জাঁকিয়ে বসেছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
