একযুগ আগে 'ব্লু হোয়েল' নামের এক খেলা কেড়েছিল বহু প্রাণ! সেই আতঙ্কই যেন ফিরল গাজিয়াবাদে। মধ্যরাতে দশতলার বারান্দা থেকে তিন কিশোরী বোনের দেহ আছড়ে পড়ে মাটিতে। মনে করা হচ্ছে, আত্মহত্যাই করেছে তারা। মিলেছে সুইসাইড নোটও। যাকে ঘিরে চর্চার শেষ নেই। শোকে ভেঙে পড়া মেয়েগুলির বাবা চেতন কুমার দাবি করেছেন, তাঁরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি কোন প্রাণঘাতী নেশায় জড়িয়ে পড়েছিল তাঁর কন্যারা।
চেতন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছেন, ''ওরা কোনও একটা কোরিয়ান গেম খেলত। আমাদের কোনও ধারণাই নেই। গতকাল ছিল ফাইনাল টাস্ক। ওরা কিন্তু আমাদের কিছুই বলেনি। ওদের জীবনে কী চলছিল বুঝতেই পারিনি আমরা।''
এমন এক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, তারা সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখছে। জানা যাচ্ছে, ছোট্ট দুই ধাপের মই বেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল ওই কিশোরীরা। তদন্তকারীদের মতে, হয়তো এটাই নির্দেশ ছিল ওই গেমের! এক আধিকারিক বলছেন, ''মনে হয় না নিছক দুর্ঘটনার ফলে এসব ঘটতে পারে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।'' এদিকে এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, তিনি দেখতে পেয়েছিলেন অত রাতে ব্যালকনির উপরে তিন কিশোরী পা ঝুলিয়ে বসেছিল! তারপরই তিনি তাদের পড়ে যেতে দেখেন। যা দেখে সঙ্গে সঙ্গে তিনি অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেন।
সুইসাইড নোটের উপরে লেখা রয়েছে, 'সত্যি জীবনকাহিনি'। তারপর লেখা- 'এই ডায়রিতে আমি যা লিখেছি সব পড়ে নিও। কেননা এসবই সত্যি। পড়ে নাও। আমি সত্যিই দুঃখিত। সরি পাপা।' সঙ্গে রয়েছে পেনে আঁকা কান্নার ইমোজিও। হৃদয়বিদারক এই বার্তা পড়ার পর ডায়রিটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, এখান থেকেই মিলতে পারে সুরাহা। তাছাড়া তিনজনের মোবাইল ফোনও পাঠানো হচ্ছে ফরেনসিক তদন্তের জন্য। দেখা হবে চ্যাট হিস্ট্রি, অ্যাপের ব্যবহারও। ওই অ্যাপের সন্ধান মেয়েগুলি কোথা থেকে পেয়েছিল তা যেমন দেখা হচ্ছে, তেমনই বাইরে থেকে কেউ নির্দেশ দিচ্ছিল কিনা সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।
