বছরে ২ কোটি চাকরির স্বপ্ন ফেরি করে ক্ষমতায় এলেও মোদি শাসনের ১২ বছরেও চাকরির বাজার ভোঁ ভোঁ। দেশের ভয়াবহ বেকারত্বের এই পরিসংখ্যান আরও একবার সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাজুয়েট হওয়ার পরও দেশের ৩০ শতাংশ যুবক বেকার হয়ে বসে রয়েছেন। কোনও চাকরি নেই তাঁদের। খোদ কেন্দ্রের রিপোর্টেই সামনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
জানা যাচ্ছে, লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে দেশে শিক্ষিত বেকারের ভয়াবহ ছবিটা সামনে এসেছে। রিপোর্ট বলছে, দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জনের বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর তরুণ তরুণীর চাকরি নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও বেকারত্বের হার গ্রামের তুলনায় শহরে অনেক বেশি। কংগ্রেস সাংসদ কে বিষ্ণু প্রসাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে জানান, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে স্নাতক বেকারের সংখ্যা ২৫.৯ শতাংশ।
রিপোর্ট বলছে, দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জনের বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর তরুণ তরুণীর চাকরি নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও বেকারত্বের হার গ্রামের তুলনায় শহরে অনেক বেশি।
রিপোর্ট বলছে, স্নাতকোত্তর তরুণ তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার আরও বেশি। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩২.২ শতাংশ স্নাতকোত্তর তরুণ তরুণী চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে রয়েছেন। আরও জানানো হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর শহরাঞ্চলে কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে বসে রয়েছেন ১১.৬ শতাংশ। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে এই হার ৭.২ শতাংশ। অর্থাৎ শহরাঞ্চলে মাধ্যমিক ও তাঁর উচ্চস্তরে পাশের পর ১৯.২ শতাংশ তরুণই বেকারত্বের শিকার। তবে রিপোর্টে স্পষ্ট যে শিক্ষিত তরুণ তরুণীরাই সবচেয়ে বেশি বেকারত্বের শিকার।
এদিকে গত সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের এক রিপোর্ট সামনে এসেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৯ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ শতাংশ। গ্রামীণ ভারতে বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশেই থমকে রয়েছে। তবে আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া’র সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে দেশে ১৫-২৫ বছর বয়সি স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
