লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দিন কয়েক আগেই চিঠি দিয়েছেন 'বিদ্রোহী' তৃণমূল সাংসদরা, এমনটাই খবর। এনডিএ ব্লকের সদস্য হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রকাশ্যে এবিষয়ে 'বিদ্রোহী' শিবিরের দু-একজন ছাড়া কেউই মুখ খুলছেন না। ফলে তালিকায় কারা, তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এল সাংসদদের সই করা চিঠি। তাতেই স্পষ্ট, কোন ১৯ জন হাত ছেড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় রয়েছেন, দেব, রচনা, জুন থেকে শুরু করে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষ, বাপি হালদাররাও।
চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সই।
পালাবদলের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের রাশ হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার দিল্লিতে বিস্তর জল্পনা শেষে সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণও খুইয়েছেন তিনি। শোনা যাচ্ছিল, ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। সেই তালিকায় কারা রয়েছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তর জল্পনা চলছিল। শুক্রবার প্রকাশ্যে এল সাংসদদের সই করা চিঠি। নথি অনুযায়ী, সই করেছেন ১৯ সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বেসুরো। রয়েছেন দেব। ভাঙনের মরশুমে ঘোষিত তৃণমূলের নতুন কমিটিতে যুব সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সায়নী ঘোষও সই করেছেন। এছাড়া রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়। দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেনও বিদ্রোহী শিবিরে। সই করেছেন পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান।
চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সই।
সূত্রের খবর, ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকের দিন সই করেন মোট ১৪ জন সাংসদ। পরে আরও পাঁচ সাংসদ সই করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ আগামী সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবেন। এনডিএকে সমর্থন ও তাঁদের বসার জায়গা আলাদা করার জন্য ফের চিঠি দেবেন। রবিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে যাবেন সাংসদরা। ওইদিন রাতেই নৈশভোজের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিক্ষুব্ধরা।
