তিনি একাধারে সাংসদ এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার। দেশের হয়ে বিশ্বজয়ের গৌরবও অর্জন করেছেন। অথচ তাঁরই নাকি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদের। তিনি এতটাই প্রাণভয়ে ভীত যে নিজের সঙ্গে এয়ারগান নিয়ে ঘুরছেন। এমনকী প্রকাশ্যে টেলিভিশন ইন্টারভিউতেও সেই এয়ারগান সঙ্গে ছিল তাঁর।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কীর্তি। সেখানে তাঁর সামনে একটি এয়ারগান দেখা গিয়েছে। কেন ওই বন্দুক সঙ্গে রেখেছেন তিনি? প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল সাংসদ বলছেন, "বিজেপি সরকার আমার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই আমি এই বন্দুক সঙ্গে রাখছি। বন্দুক চালানো প্র্যাকটিসও করছি। কোনও বিজেপির গুন্ডা সামনে এলেই গুলি চালিয়ে দেব।" যদিও পরক্ষণেই তাঁর দাবি, "আমি নিজের জীবন নিয়ে চিন্তিত নই। কবে যেতে হবে সেটা তো ভাগ্যের লিখন।"
কীর্তি আজাদ। ফাইল ছবি।
কেন্দ্র না রাজ্য সরকার, কোন সরকার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে? কীর্তি আজাদ বলছেন, "আমাকে যখন বিজেপি থেকে বের করে দেওয়া হল তখনই আমার নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপিতে থাকাকালীন আমি ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতাম। কিন্তু এখন নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী আমার বাড়ির হোমগার্ডগুলিও নেই।" বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদের অভিযোগ, বাংলায় তৃণমূলের হারের পরই দলের সাংসদদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বহু তৃণমূল নেতার নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংসদরা আক্রান্ত। একাধিক তৃণমূল নেতাকে 'ডিম থেরাপি'র মুখেও পড়তে হয়েছে। যদিও কীর্তি আজাদের সেই আশঙ্কা কম। কারণ তিনি বাংলার বাসিন্দা নন। তবে নিরাপত্তা নিয়ে তিনিও উদ্বিগ্ন।
