shono
Advertisement

Breaking News

Economic Survey Report

খয়রাতি প্রকল্পে রক্তাক্ত হচ্ছে অর্থনীতি! চাই ব্রাজিলিয়ান মডেল, বলছে আর্থিক সমীক্ষা

সরাসরি মহিলা ভাতা প্রকল্পের বিরোধিতা না করা হয়নি আর্থিক সমীক্ষায়। মূলত প্রকল্পের নকশা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।। এ ব্যাপারে মেক্সিকোয় প্রগেসা, ব্রাজিলে বলসা ফ্যামিলিয়া প্রকল্পের উদাহরণ টানা হয়েছে।
Published By: Saurav NandiPosted: 09:51 AM Jan 31, 2026Updated: 02:50 PM Jan 31, 2026

পশ্চিমবঙ্গের 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' কিংবা মহারাষ্ট্রের 'লড়কি বহিন', বিনা শর্তে মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার মতো এই ধরনের খয়রাতি প্রকল্প নিয়ে সতর্কবার্তা দিল আর্থিক সমীক্ষা (Economic Survey Report)।

Advertisement

গত বছর বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে মহিলাদের বিনা শর্তে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, নীতীশের ক্ষমতায় ফেরার চাবিকাঠিই ছিল এই পদক্ষেপ। বিজেপিশাসিত অসমেও ভোটের মুখে মহিলাদের হাতে 'বিহুর উপহার' হিসাবে আট হাজার টাকা দিয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়াতে পারে বলে জল্পনা। তার আগে আর্থিক সমীক্ষায় এই বার্তা 'তাৎপর্যপূর্ণ' বলেই মনে করছেন অনেকে।

রবিবার বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে বৃহস্পতিবার সংসদে আর্থিক সমীক্ষা পেশ করা হয়। তাতে বলা হয়, মহিলাদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার কিছু তাৎক্ষণিক সুবিধা রয়েছে। রোজগারের ক্ষেত্রে কিছুটা সাহায্য হয়। কিন্তু যে হারে বিনা শর্তে নগদ অনুদান প্রকল্পের মাত্রা বাড়ছে, একের পর এক রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্প চালু হচ্ছে, তাতে রাজ্যগুলির কোষাগারের অবস্থা করুণ হচ্ছে। জনমোহিনী রাজনীতি করতে গিয়ে পরিকাঠামোর মতো যে সব ক্ষেত্রে খরচ করলে আর্থিক বৃদ্ধি বাড়তে পারে, সেখানে ব্যয় কমছে। হাতে টাকা পেয়ে যাওয়ায় মহিলাদের কাজের বাজারে অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে। কেউ নিজেদের রোজগারের জন্য তৈরি করা, দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে না। দীর্ঘ মেয়াদে তা বেশি লাভজনক হত।

তবে সরাসরি মহিলা ভাতা প্রকল্পের বিরোধিতা না করা হয়নি আর্থিক সমীক্ষায়। মূলত প্রকল্পের নকশা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।। এ ব্যাপারে মেক্সিকোয় প্রগেসা, ব্রাজিলে বলসা ফ্যামিলিয়া প্রকল্পের উদাহরণ টানা হয়েছে। আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেখানে স্কুলে হাজিরা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো নানা শর্ত রয়েছে। কত দিন পর্যন্ত টাকা মিলবে, তা-ও বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক বোঝা থাকছে না। অথচ মানব সম্পদ উন্নয়ন হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের মত, এই ধরনের প্রকল্পের জন্য রাজ্যের কোষাগারে যে চাপ পড়ছে, তা নজরে রাখছেন লগ্নিকারীরা। আর এতে যে শুধু রাজ্যের উপরেই বাড়ছে, তা নয়। দেশের ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে। ভারতের বন্ডে বেশি সুদ গুনতে হচ্ ভারত সরকারের বন্ড বা ঋণপত্র এখন আন্তর্জাতিক সূচকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে লগ্নিকারীরা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের কোষাগারের অবস্থাও খতিয়ে দেখছেন। ফলে রাজ্যগুলির আর্থিক সমস্যা এখন আর রাজ্যের সীমানায় আটকে নেই। এর ফলে দেশের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ছে। ভারতের বন্ডে বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে।

 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement