বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত অজিত পওয়ারের চেয়ারে বসছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শনিবারই শপথ নিতে চলেছেন তিনি। এমনটাই জানা যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম সূত্রে। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (NCP) দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর এনসিপির সভাপতি পদে ছিলেন অজিত। তাঁর জায়গায় সভাপতি হতে চলেছেন প্রফুল প্যাটেল।
সূত্রের খবর, অজিতের অবর্তমানে অভিভাবকহীন এনসিপির হাল ধরতে শনিবার দুপুর ২টোয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠককে নেতৃত্ব দেবেন অজিত পত্নী সুনেত্রা। এরপর বিকেল ৫টা নাগাদ মুম্বইয়ে রাজভবনে যাবেন তিনি। সেখানেই হবে সুনেত্রার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বুধবার সকালে বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় অজিতের। তাঁর প্রয়াণের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেয় এনসিপি। সূত্রের খবর, এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল এবং দলের অন্যান্য নেতারা আলাদা করে কথা বলেন সুনেত্রার সঙ্গে। সেই বৈঠক পরই সামনে আসছে এই তথ্য।
এনসিপি চাইছে পওয়ারদের গড় বারামতি থেকে সুনেত্রাকে প্রার্থী করতে। এই বারামতি থেকেই সাতবার বিধায়ক হয়েছিলেন অজিত। জীবনের শেষ মুহূর্তেও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বারামতি। সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার পর এই আসন থেকেই সুনেত্রাকে বিধায়ক করে আনাই লক্ষ্য এনসিপির। সেই নিয়ে আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন প্রফুলরা। তবে শরদ পওয়ারের সঙ্গে ‘রিইউনিয়ন’ নিয়ে আপাতত ভাবিত নয় এনসিপি।
উল্লেখ্য, যে কোনও আঞ্চলিক দলের জন্যই প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর স্পষ্ট উত্তরাধিকারী থাকাটা জরুরি। সেটা না হলে আঞ্চলিক দলের পক্ষে অস্তিত্ব বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। অতীতে বহু রাজনৈতিক দলের অবলুপ্তি বা অবক্ষয়, এই তত্ত্বই প্রতিষ্ঠিত করে। অজিতের মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল এনসিপির অস্তিত্ব নিয়ে। কারণ মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অজিত ছিলেন রাজনীতির মধ্যগগনে। কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সবে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন। কিন্তু উত্তরসূরি বেছে দেওয়ার সময়টুকু তিনি পাননি। এই অবস্থায় অজিতের স্ত্রীর ভরসা রেখে আপাতত টিকে থাকার যুদ্ধে এনসিপি।
