ভারত-আফগান ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব চিরকাল মাথাব্যাথার কারণ হয়েছে ইসলামাবাদের জন্য। এবার ইরানের বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে সেই বন্ধুত্বে চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ভারত-আফগান অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ভুল খবর ছড়ানোর চেষ্টা করেছে শেহবাজ শরিফ সরকার। এবার সেই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করে দিল ভারত। বিশ্বের সামনে খুলে দিল পাকিস্তানবের মুখোশ।
জানা গিয়েছে, সমাজ মাধ্যমে বিভিন্ন পাক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভুয়ো চিঠি ছড়িয়ে পরে। সেখানে দাবি করা হয় ইরানে অস্থিরতার সুযোগে আফগানিস্তানের সঙ্গে সবরকম অর্থনৈতিক আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারত।
মঙ্গলবা, পাকিস্তানের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের এই ভুয়ো দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের তরফে সরাসরি জানানো হয়েছে এই খবরগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পিআইবি ফ্যাক্ট চেক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছে, "পাকিস্তানি প্রচার অ্যাকাউন্টগুলি একটি ভুয়ো চিঠি প্রচার করছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ইরানে বাড়তে থাকা অস্থিরতার কারণে ভারত আফগানিস্তানের সঙ্গে সাময়িকভাবে বাণিজ্য স্থগিত করেছে।" জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আফগানিস্তানে ৩১৮.৯৭ মিলিয়ান মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। অন্যদিকে, আফগানিস্তান থেকে ৬৮৯.৮১ মিলিয়ান মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।
দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানে তালিবান শাসন শুরু হওয়ার পরে সাময়িক ভাবে সমস্যা দেখা দেয় দুই দেশের মধ্যে। তালিবান সরকারকে শুরুতে স্বীকৃতি না দিলেও সেই পথে ভারত এখন অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের সময় কাবুল সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রতিনিধি আনন্দ প্রকাশ। এরপর পাকিস্তানের চাপ বাড়িয়ে ভারতে আসেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময়েই মনে করা হচ্ছিল, তালিবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে পারে ভারত। তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার ভারতে কোনও কূটনৈতিক পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। নূর আহমেদ নূরকে দিল্লিতে নিযুক্ত করা হয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, ইসলামাবাদ-সাংহাইয়ের জোড়া ফলা সামলাতে এবার কী তাহলে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে দিল্লি?
