shono
Advertisement
India-US Trade Deal

মার্কিন চাপ এড়িয়ে কীভাবে কৃষিক্ষেত্রকে 'বাঁচাল' নয়াদিল্লি? বাণিজ্য চুক্তিতে প্রাধান্য ‘আত্মনির্ভর ভারত’কেই

দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-আমেরিকার সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহেই সেই ঘোষণা করেছেন প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘোষণার পর শনিবার অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে দুই দেশ।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 05:30 PM Feb 07, 2026Updated: 06:45 PM Feb 07, 2026

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে দেশের কৃষিক্ষেত্রকে বিক্রি করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এই অভিযোগ তুলেই সরব হয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু শনিবার সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে সেই অন্তবর্তী সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তিতেও ‘আত্মনির্ভর ভারত’কেই প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পীযূষ বলেন, “মার্কিন কৃষিপণ্যগুলিকে ভারতের বাজারে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তবে ভারত বেছে বেছে কিছু নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে লাল জোয়ার, ট্রি নাটস, ওয়াইন ও স্পিরিটস।” আমেরিকা ভারতের দুগ্ধ এবং কৃষি বাজারে আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার চেয়েছিল। কিন্তু সেই মার্কিন ‘চাপ’ উড়য়ে দিয়েছে। উলটে ভারত আমেরিকার বাজারে তার বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্যের উপর শূন্য শুল্ক আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- চা, কফি, কলা, আম ইত্যাদি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যে সব পণ্য উৎপাদনে আমরা আত্মনির্ভর, সেগুলিকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।” তাঁর দাবি, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার খুলে দেবে। জানা গিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ভারত-আমেরিকার চূড়ান্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হবে।

দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-আমেরিকার সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহেই সেই ঘোষণা করেছেন প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘোষণার পর শনিবার অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে দুই দেশ। তার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকার। পাশাপাশি, রুশ তেল কেনার জন্য ভারতের পণ্যে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পীযূষ।

জেনেটিকালি মডিফায়েড ফসল, মাংস, পোলট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য, সয়াবিন, ভুট্টা, চাল, গম, চিনি, এবং জোয়ার, বাজরা, রাগির পণ্য এ দেশে কম শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে না আমেরিকা।

দেশের কৃষিক্ষেত্রও পুরোপুরি সুরক্ষিত জানিয়ে পীযূষ বলেন, “মশলা, চা, কফি, নারকেল তেল, কাজু, বিভিন্ন ফল ও সবজি— এই সব পণ্য বিনাশুল্কে আমেরিকায় রপ্তানি করতে পারবে। ভারত।” বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে মোটেই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। যে সব পণ্য উৎপাদনে দেশ স্বনির্ভর, সেগুলিকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। জেনেটিকালি মডিফায়েড ফসল, মাংস, পোলট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য, সয়াবিন, ভুট্টা, চাল, গম, চিনি, এবং জোয়ার, বাজরা, রাগির পণ্য এ দেশে কম শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে না আমেরিকা। কলা, স্ট্রবেরি, চেরি, সাইট্রাস ফল, গ্রিন টি, কাবুলি ছোলা, মুগ, তেলবীজ, চিনাবাদাম, নন-অ্যালকোহলিক পানীয়, স্টার্চ, ইথানল এবং তামাক— এই সব পণ্যেও কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement