রাশিয়ার একটি সংস্থায় মোটা টাকা বেতনের চাকরির ‘টোপ’ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই ফাঁদে পা দিয়েই চরম পরিণতি হল পাঞ্জাবের এক যুবকের। কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন দেশে।জানা গিয়েছে, রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁকে জোর করে পাঠানো হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২১ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম সমরজিৎ সিং। তিনি পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত বছর তাঁকে মোটা টাকার চাকরির টোপ দিয়েছিলেন এক এজেন্ট। সেই সূত্রেই জুলাই মাসে তিনি পৌঁছন রাশিয়ায়। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পরই ভয়াবহ ঘটনার সম্মুখীন হন সমরজিৎ। জোর করে তাঁকে রুশ সেনায় যোগদান করানো হয় এবং পাঠানো হয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। পরিবারের দাবি, সমরজিতের কোনওদিনই কোনও সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেনার প্রথম সারিতে রাখা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে সমরজিতের সঙ্গে তাদের শেষবার কথা হয়। তার পর তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।
দীর্ঘ আট মাস পর বৃহস্পতিবার সমরজিতের কফিনবন্দি দেহ দেশে ফেরে। শুক্রবার লুধিয়ানায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সমরজিতের বাবা চরণজিৎ সিং কাতর কণ্ঠে বলেন, "আমি সকলকে সতর্ক করছি, এরকম প্রলোভনে পা দেবেন না। সন্তানদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না। আর্থিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, এমন পদক্ষেপ করবেন করা থেকে বিরত থাকবেন। আমি সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছি।"
