রামভক্তদের অপমান আসলে ভারতের আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যেরই অপমান। শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে স্বামী সত্যমিত্রানন্দ গিরি মহারাজের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এ ভাবেই বিরোধীদের বিঁধলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ দিনের অনুষ্ঠানে যোগী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, মনোহর লাল খাট্টর এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। যোগীর দাবি, অতীতে উত্তরপ্রদেশে যখন ঐতিহ্যের অবমাননা করা হত, তখন সেখানে কেবল নৈরাজ্য আর দাঙ্গা চলত। কিন্তু আজ পরিস্থিতি বদলেছে। লখনউয়ের মসনদে বসার পর থেকে সরকার ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষা করছে বলেই উত্তরপ্রদেশ আজ উন্নয়নের পথে হাঁটছে।
এ দিন হরিদ্বারের অনুষ্ঠানে যোগী বলেন, “একটা সময় ছিল যখন উত্তরপ্রদেশে রামভক্তদের ওপর গুলি চলত। বোন-বেটি থেকে ব্যবসায়ী— কেউই নিরাপদ ছিলেন না। সেই সময় উত্তরপ্রদেশ ছিল লুঠতরাজ আর গুন্ডামির আখড়া।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে দাঙ্গাবাজরা পিছু হঠেছে। উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নিজের জন্মভিটে উত্তরাখণ্ডের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, ভারতের পরিচয় কেবল ভৌগোলিক নয়, এর ভিত্তি ঋষি পরম্পরা। সেই পরম্পরাকে পাথেয় করেই অযোধ্যায় ৫০০ বছর পর রামমন্দির তৈরি হয়েছে। কাশী, মথুরা থেকে প্রয়াগরাজ— সর্বত্রই আজ জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটছে।
৫০০ বছর পর অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সদিচ্ছা ও নীতি পরিষ্কার থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়। চলতি মাঘ মেলায় ২১ কোটির বেশি পুণ্যার্থী প্রয়াগরাজে গঙ্গাসাগর সঙ্গমে ডুব দিয়েছেন। যোগী মনে করিয়ে দেন, এক সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভাগ ছিল ৪৪ শতাংশ। মাঝের সময়টায় নিজেদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ায় সেই গৌরবে ভাটা পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত ফের বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে।
