'দেবেগৌড়াজি তো আমাদের ভালোবাসতেন, অথচ বিয়েটা করলেন মোদিকে।' ভরা সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রসিকতা। সেই রসিকতাটা আবার করলেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা দেশের প্রধান বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। দিনভর মার-মার কাট-কাট আবহাওয়ার মধ্যে সংসদে যেন একমুঠো স্বস্তির হাসি। যে হাসি রাঙিয়ে দিয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও।
একটা সময় সংসদে ইস্যুভিত্তিক তর্ক-বিতর্ক আলোচনা যা-ই চলুক না কেন, শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সৌজন্যের ঘাটতি হত না। মোদি জমানায় সেই সৌজন্যের ছবি কার্যত উধাও। রাহুল গান্ধী লোকসভার বিরোধী দলনেতা হওয়ার বিরোধ যেন আরও বেড়েছে। এখন সাংসদদের লড়াই অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ফলে তর্ক-বিতর্কের মধ্যে 'সৌজন্য' এখন পিছনের সারিতে। এ হেন বিদ্বেষের আবহে একপ্রকার নজিরবিহীন দৃশ্য এই সৌজন্য।
আসলে মল্লিকার্জুন খাড়গে, এইচ ডি দেবেগৌড়া, শরদ পওয়ারের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের জন্য বুধবার ছিল রাজ্যসভার শেষদিন। এঁদের মধ্যে খাড়গে এবং দেবেগৌড়া আর রাজ্যসভায় ফিরবেন না। তাঁদের বিদায় সংবর্ধনা জানাতে দীর্ঘদিন বাদে রাজ্যসভায় হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। খাড়গে নিজের বিদায়ী ভাষণে বলেন, "এই সংসদ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে পরিপূর্ণ করেছে।"
বিদায়ী অন্য সাংসদ দেবেগৌড়াকে নিয়ে বলতে গিয়েই ওই রসিকতা করেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "দেবেগৌড়াজি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আরও বহুরকমভাবে দেশের সেবা করেছেন। কিন্তু একটা কথা, উনি আমাদের সঙ্গে প্রেম করলেন, আমাদের সঙ্গে ওঠাবসা করলেন, অথচ বিয়েটা করলেন মোদিজিকে।" খাড়গের ওই মন্তব্য হেসে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। আসলে কর্নাটকে একটা সময় কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ছিল দেবেগৌড়ার দল জেডিএস। পরে তাঁরা বিজেপির সঙ্গ নেয়। তাই নিয়েই ওই রসিকতা খাড়গের।
