মোদি সরকারের প্রস্তাবিত বিল পাশ হয়ে গেলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলি একেবারে ভেঙে পড়বে। প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল নিয়ে এভাবেই আশঙ্কা প্রকাশ করল অল ইন্ডিয়া ক্যাথলিক ইউনিয়ন। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, এই বিল অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত কেন্দ্রের। যদি এই বিল আইনে পরিণত হয়, তাহলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে বলেও মনে করছে খ্রিস্টান সংস্থাটি।
গত ২৫ মার্চ লোকসভায় পেশ হয় ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬। এই বিলে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা একবার বিদেশি অনুদান পাওয়া বন্ধ করে দিলে সেই সংস্থার বিদেশি বিনিয়োগ থেকে যা সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলি আর ব্যবহার করতে পারবে না। সেগুলি নির্দিষ্ট একটি সংস্থার মারফৎ চলে যাবে কেন্দ্রের হাতে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবিত বিলে বলা আছে, কেন্দ্র চাইলে সব সংস্থাকে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত টাকা খরচ করার সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, কোনও সংস্থা যদি বিদেশি বিনিয়োগের লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন না করে, বা সরকার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ওই সংস্থার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
আসলে FCRA লাইসেন্স ব্যবহার করেই বিদেশ থেকে অনুদান নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো। তবে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত ছাড়া বিদেশি অনুদান গ্রহণ করা যায় না। ২০১০ সালের ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করতে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে। প্রতি বছর ওই বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার লাইসেন্স যাচাই করা হয়। প্রতি বছর কোনও না কোনও সংস্থার লাইসেন্স বাতিলও করা হয়। নতুন বিল অনুযায়ী কারও লাইসেন্স বাতিল হয়ে ওই সংস্থা আগে যা অনুদান পেয়েছে সবটাই সরকারের খাতায় চলে যাবে।
এই বিলের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। এবার কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখল খ্রিস্টান সংস্থা। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানের ২৫ এবং ২৬ ধারা লঙ্ঘিত হতে পারে। এছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচালিত বহু সামাজিক সংগঠন রয়েছে যা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য়ক্ষেত্রে কাজ করে। এই বিল আইনে পরিণত হলে সেই পরিষেবাও একেবারে ভেঙে পড়বে। সামাজিক সম্প্রীতিও নষ্ট হতে পারে।
