প্রতি বছর মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের রোমাঞ্চকর অভিযানে যান পর্বতারোহীরা। সেই অভিযানে অনেকে অসুস্থও হয়ে যান। এবার ট্রেকিং গাইডের একাংশের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের 'প্রাণঘাতী' মারাত্মক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠে এসেছে নেপাল পুলিশের তদন্তে। অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে খাবারে ভেজাল মিশিয়ে পর্বতারোহীদের দুর্গম এলাকায় অসুস্থ করে বাড়তি রোজগারের পথ খোঁজা হয়। নেপাল পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এই চক্রটি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিল! গাইড, হেলিকপ্টার কোম্পানি ও হাসপাতাল কর্মকর্তাদের একাংশ জড়িত বলে প্রাথমিক খবর পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গাইডরা খাবারে বেকিং সোডার মতো পদার্থ মেশাতেন! সেটি পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা বাড়ালে পর্বতারোহীরা অসুস্থ হয়ে পড়তেন। প্রায় ৮ হাজার মিটার উঁচু তুষারাবৃত এলাকায় অসুস্থতার জন্য প্রাণসংশয়ের আশঙ্কায় শঙ্কিত হতেন অসুস্থ পর্বতারোহীরা। তাঁদের জরুরি অবতরণের জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা হত! তদন্তকারীরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এরপর এই চক্রটি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদ্ধারকাজের খরচ বাড়িয়ে দিত। যেখানে সাধারণত একটি হেলিকপ্টার উদ্ধারের খরচ প্রায় ৪ হাজার ডলার, অভিযোগ সেখানে বিমা কোম্পানিগুলোকে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত বিল করা হত। কয়েকটি ক্ষেত্রে, একটি মাত্র উদ্ধারকারী কপ্টারে একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে আলাদাভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতে পর্বতারোহী মহলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ছবি-সংগৃহীত
পরিসংখ্যান বলছে, এভারেস্ট অভিযানে বহু পর্বতারোহী মারা যান। ২০২৩ সালটি এভারেস্টের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক বছর ছিল। ওই বছর ১৮ জন প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক তদন্তে বিরাট কেলেঙ্কারি সামনে আসে। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর হার বেড়ে চলার পিছনে ট্রেকিং গাইডদের একাংশের ষড়যন্ত্র ছিল না তো? ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু হাসপাতালও কেলেঙ্কারিতে জড়িত! ওইসব হাসপাতাল ভুয়ো মেডিক্যাল রেকর্ড ও অননুমোদিত ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করত! অভিযোগ, একটি ঘটনায় পুরনো এক্স-রে ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তদন্তে। কোটি কোটি ডলারের জালিয়াতি হয়েছে বলে তথ্য উঠে আসছে।
