পরনে বোরখা অথচ কাঁধে গঙ্গাজলের পবিত্র বাঁক। মুখে হর হর মহাদেব স্লোগান। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে কানওয়ার যাত্রায় সামিল হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের এক মুসলিম তরুণী। গন্তব্য হরিদ্বার থেকে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল, দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে মহাশিবরাত্রিতে শিবের মাথায় জল ঢাললেন তামান্না মালিক নামের ওই মুসলিম তরুণী। বেনজির এই দৃশ্য দেখে পথে ফুল ছড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানালেন হিন্দুরা।
গত কয়েক দিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো চর্চায় উঠে এসেছেন তামান্না। সম্ভল জেলার বদনপুরের বাসাই গ্রামের বাসিন্দা এই মুসলিম তরুণীর কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেওয়ার তথ্য সামনে আসতেই যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে ফুল ছড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায় হিন্দু সংগঠনগুলিতে। দেওয়া হয় পুলিশি নিরাপত্তাও। গত রবিবার গ্রামে ফিরে সম্ভলের খেমনাথ মন্দিরে শিবের জলাভিষেক করেন তিনি।
তামান্নার দাবি, ভিন্ন ধর্মের যুবককে ভালোবেসেছিলেন তিনি। মানত করেছিলেন যদি তাঁদের বিয়ে হয় তবে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেবেন। সেই মতোই এই ধর্মীয় যাত্রায় অংশ নেন তামান্না।
জানা যাচ্ছে, তিন বছর আগে আমন ত্যাগী নামে গ্রামের এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তামান্নার। দু'জন ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক মানেনি পরিবার। এই অবস্থায় পরিবারের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন ওই যুগল। বর্তমানে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। তামান্নার দাবি, সেই সময় তিনি মানত করেছিলেন যদি এই বিয়ে হয় তবে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেবেন। সেই মতোই এই ধর্মীয় যাত্রায় অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের প্রশংসা করে তরুণী বলেন, "এই যাত্রায় বহু মানুষের ভালবাসা পেয়েছি আমি। একাধিক জায়গায় ফুল ছড়িয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে আমাকে। সনাতন ধর্মের মানুষ আমায় সমর্থন করেছেন।"
তবে বোরখা পরে ধর্মীয় যাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় বিতর্কও শুরু হয়েছে। এপ্রসঙ্গে তামান্না বলেন, "আমি সর্বদা বোরখা পরে এসেছি। এই পোশাকে আমি অভ্যস্ত। মানুষের পোশাকে আপত্তি কী আছে আমি সত্যিই বুঝি না। তবে যারা এই পোশাকের বিরোধিতা করছেন তাঁদের সংখ্যা নগণ্য, আমার মতে তাঁদের উপেক্ষা করা উচিত।" উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি হরিদ্বার যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তামান্না ও তাঁর স্বামী আমন ত্যাগী। গত রবিবার ফিরে এসে শিবের জলাভিষেকে অংশ নেন তাঁরা।
