প্রথমে রহস্যমৃত্যু। এদিকে মৃত্যুর পরে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট! রাজস্থানের 'কথাবাচক' (ধর্মপ্রচারক) সাধ্বী প্রেম বইসার অন্তিম পরিণতি ঘিরে জট পাকিয়েছে। ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। গত বছরই বাবার সঙ্গে তাঁর একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক ঘনিয়েছিল। সেই সময় সাধ্বী বইসা বলেছিলেন তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে অগ্নিপরীক্ষাও দিতে প্রস্তুত। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর পরে তাঁর পোস্টে লেখা 'জীবদ্দশায় না হোক, মৃত্যুর পরে ন্যায়বিচার পাব' অংশটি কি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে? তিনি কি আত্মহত্যাই করেছেন! নাকি এটা খুন? সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনীতিকরাও।
জানা গিয়েছে, বুধবার বোরানাদা আশ্রম থেকে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা বীরম নাথ। তিনি সাধ্বীর গুরুও। কিন্তু চিকিৎসকরা সাধ্বীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পরে তাঁর শরীরে কোনও রকম সাড়া পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন সাধ্বী। এক কম্পাউন্ডারকে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে একটি ইঞ্জেকশন দেন। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংজ্ঞা হারান সাধ্বী। আর চেতনা ফেরেনি তাঁর।
সাধ্বী বইসা বলেছিলেন তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে অগ্নিপরীক্ষাও দিতে প্রস্তুত। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর পরে তাঁর পোস্টে লেখা 'জীবদ্দশায় না হোক, মৃত্যুর পরে ন্যায়বিচার পাব' অংশটি কি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে?
মৃত্যুর প্রায় আধঘণ্টা পরে সাধ্বীর অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়। যেখানে সাধ্বীর বয়ানেই কিছু কথা বলা হয়েছে। 'সকল শ্রদ্ধেয় সাধুসন্তদের উদ্দেশে আমার প্রণাম। সনাতন ধর্মের প্রচারের জন্যই প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে ছিলাম। পৃথিবীতে সনাতন ধর্মের চেয়ে বড় আর কোনও ধর্ম নেই। আজ, আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত সনাতন ধর্ম আমার হৃদয়ে রয়েছে। আমি ভাগ্যবান যে আমি সনাতন ধর্মে জন্মগ্রহণ করেছি। এবং আমি সনাতন ধর্মের জন্যই আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছি। আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আদি জগৎগুরু শংকরাচার্য ভগবান, বিশ্ব যোগগুরু এবং শ্রদ্ধেয় সাধুসন্তদের আশীর্বাদ পেয়েছি। আমি আদি গুরু শংকরাচার্য এবং দেশের অনেক মহান সাধুসন্তদের কাছে চিঠি লিখে অগ্নিপরীক্ষার জন্য অনুরোধ করেছি, কিন্তু প্রকৃতির ইচ্ছে ঠিক কী ছিল? আমি চিরতরে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিন্তু ঈশ্বর এবং শ্রদ্ধেয় সাধুসন্তদের কথার প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, আমি ন্যায়বিচার পাব। যদি আমার জীবদ্দশায় তা নাও হয়, তাহলে মৃত্যুর পরে।'
সাধ্বীর বাবা জানিয়েছেন, পোস্টটি তাঁর মেয়ের ফোন থেকেই করা হয়েছে। জানিয়েছেন, সাধ্বীরই এক গুরু এই বার্তা দিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এমন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক ঘনিয়েছে। কেন একজন মৃতার বয়ানে পোস্ট করা হল, উঠছে প্রশ্ন।
এদিকে গত বছর একটি বিতর্কে জড়ান সাধ্বী। একটি ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল। যে ক্লিপে তাঁকে একটি ঘরের ভিতরে তাঁর বাবাকেই আলিঙ্গন করতে দেখা গিয়েছে। সাধ্বী এটাকে ভালোবাসার প্রকাশ বলে অভিহিত করে বলেছিলেন, একজন বাবা এবং একজন মেয়ের সম্পর্ককে হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একজন গ্রেপ্তারও হয়।
