শিল্পায়নের সলতে পাকিয়েছিলেন আগেই, এবার হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করল লখনউ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জাপান সফরের প্রথম দিনেই ঝরল লগ্নির বৃষ্টি। বুধবার টোকিওতে একাধিক জাপানি বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার মউ স্বাক্ষর করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কৃষি সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স— গুচ্ছ গুচ্ছ ক্ষেত্রে জাপানি প্রযুক্তির জোয়ার আসতে চলেছে যোগীরাজ্যে।
বুধবার টোকিওতে জাপানি শিল্পমহলের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই কুবোতা কর্পোরেশন, মিন্ডা কর্পোরেশন, নাগাসে অ্যান্ড কোং-এর মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলি উত্তরপ্রদেশে লগ্নির অঙ্গীকার করেছে। সরকারি সূত্রের খবর, কৃষি যন্ত্রপাতি, জল ও পরিবেশ পরিকাঠামো, অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এই বিপুল টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
লগ্নি তালিকায় সবথেকে নজর কেড়েছে ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত সংস্থা কুবোতা কর্পোরেশন। ওসাকা ভিত্তিক এই সংস্থাটি ট্রাক্টর, হারভেস্টার এবং নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি তৈরিতে বিশ্বসেরা। উত্তরপ্রদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে তারা বড়সড় বিনিয়োগ করতে চলেছে। পাশাপাশি, জাপানি এভিয়েশন ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি বা জেএই (JAE) অটোমোটিভ ও অ্যারোস্পেস সেক্টরে উন্নত কানেক্টর ও ইলেকট্রনিক ইন্টারফেস তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
জাপানি সংস্থা সেইকো অ্যাডভান্স আবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রিন্টিং ও গ্রাফিক্সের কাজে রাজ্যে কারখানা গড়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটন ও আবাসন শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মউ সই করেছে ওঅ্যান্ডও গ্রুপ। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, এই লগ্নির ফলে রাজ্যে অটোমোটিভ ইলেকট্রনিক্স এবং আধুনিক যন্ত্রাংশ তৈরির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, উত্তরপ্রদেশ এখন লগ্নিকারীদের জন্য সবথেকে নিরাপদ ও লাভজনক গন্তব্য। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সরিয়ে শিল্পের পথ প্রশস্ত করতেই তিনি সরাসরি জাপানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। দিল্লির মসনদ দখলের লড়াইয়ের আগে উত্তরপ্রদেশের এই ‘শিল্প বিপ্লব’ যোগী আদিত্যনাথের ভাবমূর্তিতে এক নতুন পালক যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বৃত্ত। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন রসায়ন আগামীর শিল্প মানচিত্রে উত্তরপ্রদেশকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
