এপস্টেইন ফাইলস বিতর্কে এবার নাম জড়াল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর। সদ্য প্রকাশিত নথিতে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কিছু ইমেল প্রকাশ্যে এসেছে। এরপরই হইচই পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে যৌন অপরাধীর সঙ্গে কেন যোগাযোগে ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী?
আমেরিকার ন্যায় বিচার বিভাগ গত ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি এবং ইমেল প্রকাশ্যে এনেছে। এখানেই হরদীপের নাম উঠে এসেছে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ২০১৭ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় তিন বছর যৌন অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। কিন্তু কী রয়েছে ইমেলগুলিতে? জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে বৈঠকের সময়সূচি, ভারতে ব্যবসার সুযোগ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় হরদীপ এবং জেফ্রি এপস্টেইনের। তবে হরদীপের কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রকাশিত নথিতে সে সময়কালের কথা বলা হয়েছে সেই সময় হরদীপ কোনও সরকারি পদে ছিলেন না। তিনি নিউ ইয়র্কের একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে হরদীপ বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তরফে হরদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, “বৈঠকগুলি ছিল খুবই সীমিত এবং কাজ সংক্রান্তই ছিল। নিউ ইয়র্কে আট বছরে মাত্র তিনটি বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় আমি আন্তর্জাতিক পিস ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলাম।” এপস্টেইনের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে তিনি যে অবগত ছিলেন না, সেকথাও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জেলে আত্মঘাতী হন ২০১৯ সালে। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তথা সঙ্গিনী ম্যাক্সওয়েল এখনও জেলে। শিশু পাচার এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধের মামলায় তিনিও দোষী সাব্যস্ত। এপস্টেইন ফাইলে নাম রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুধু তা-ই নয়, এপস্টেইন কাণ্ডে সাম্প্রতিক অতীতে বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির নামও জড়িয়েছে।
