বালোচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে রক্তাক্ত পাকিস্তান। গত কয়েক দিনে বালোচ লিবারেশন আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী ৫ জেলার ১২ জায়গায় হামলা চালায়। এর ফলে মৃত্যু হয়েছে ১৭ পাক জওয়ানের। বালোচিস্তানে তীব্র অশান্তির জন্য ভারতকে দায়ি করছে পাকস্তান। ইসলামাবাদের সেই দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি। পাশাপাশি ভারতের কটাক্ষ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বরাবর ভারতের ঘাড়ে দায় ঠেলে ওরা।
নিজেদের মাটি থেকে পাক সেনাকে উপড়ে ফেলতে ‘অপারেশন হেরফ’ শুরু করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাতেই ১৭ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পাক সেনার দাবি, তাদের হামলায় ১৪৫ জন বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৩১ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, ‘ভারতের মদতপুষ্ট গোষ্ঠী’ই বালোচিস্তানে গোলমাল পাকাচ্ছে। পালটা বিবৃতি দিয়েছে দিল্লি।
পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য, অপশাসন, রাষ্ট্রীয় হিংসা ও লাগাতার মানবধিকার লঙ্ঘনের জেরেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। তিনি বলেন,‘‘আমরা পাকিস্তানের ভিত্তিহীন দাবিগুলি প্রত্যাখ্যান করছি। অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ সরাতে এই কৌশল নিয়েছে তারা।’’ রণধীর যোগ করেন, ‘‘কোনও সহিংস ঘটনা ঘটলে তা তুচ্ছ বলে দাবি করে পাকিস্তান। সেই দাবি থেকে বিরত থেকে ওই অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণের বিষয়ে মনোনিবেশ করলে ভালো হয়।’’
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ। পাক সেনার অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। এই বাহিনীকে দমন করতে গোটা বালোচিস্তানে অত্যাচারের সীমা পার করেছে পাকসেনা। পালটা আসছে প্রত্যাঘাত। বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান। পাশাপাশি শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে আর এক বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান। গুরুতর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালোচ সংগঠনও হামলার ঝাঁজ বাড়াল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
