বন্যার জেরে প্রবল জলস্রোতে ভেসে চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় প্রায় ৩ বছর জেলে বন্দি করা হয়েছিল ভারতীয় নাগরিকদের। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ৭ ভারতীয়কে পাকিস্তান থেকে ফেরাল সরকার। শনিবার পাঞ্জাবের আটারি সীমান্ত থেকে ভারতে আসেন ওই ভারতীয়রা। দেশে ফিরে পাক জেলে বন্দি জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, যে ৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁদের বেশিরভাগই পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা। এঁদের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি ফিরোজপুর, বাকিরা লুধিয়ানা, জলন্ধর ও উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। জেলবন্দি জীবনের ভয়াবহ ঘটনার কথা বর্ণনা করে এক যুবক বলেন, ২০২৩ সালে বন্যার জলে আটকে পড়া ট্রাক্টর উদ্ধার করতে নদীতে নেমেছিলেন তিনি। তখন প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে ভেসে যান এবং পাকিস্তানে গিয়ে ওঠেন। সেখানে গ্রামবাসীরা তাঁকে সাহায্য করার পরিবর্তে পাকিস্তান সেনার হাতে তুলে দেয়।
এরপরই শুরু পাক সেনার অত্যাচার। সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে কেউ নিজের গবাধি পশুকে বাঁচাতে গিয়ে স্রোতের মুখে পড়ে পাকিস্তানে গিয়ে ওঠেন। অনেকেরই অভিযোগ, তাঁদের আটক করার পর দিনের পর দিন ছোট ছোট খুপরি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক মারধরও করা হয় তাদের।
প্রায় ৩ বছর ধরে পাক জেলে বন্দি থাকার পর অবশেষে তাঁদের ভারতে ফেরানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, প্রতিবছরের মতো এবছরও ১ জানুয়ারি দুই দেশ নিজেদের কারাগারে বন্দিদের তালিকা সামনে আনে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্দিদের প্রত্যাবর্তন করানো হয়। দেশে ফেরার পর সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় সরকার। এরপর নিজেদের পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় তাঁদের।
