আর রাখঢাক নয়, ভারতে নাশকতা চালাতে গাজার সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের জোট বাধার কথা স্বীকার করে নিল পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা। সম্প্রতি লস্কর কমান্ডার ফয়জল নাদিমের এক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, হামাসের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চলেছে দুই নিষিদ্ধ সংগঠন। প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস ও পাক মদতপুষ্ট লস্করের এই জোট শুধু ভারত নয় পশ্চিম এশিয়াকে অশান্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান থেকে প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিওতে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের কমান্ডার ফয়জলকে বলতে শোনা যায়, ২০২৪ সালেই কাতারের দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয় লস্করের। এই মারকাজি মুসলিম লিগ হল লস্করের রাজনৈতিক সংগঠন। যাদের লক্ষ্য লস্করের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। ওই নেতার দাবি, হামাসের সঙ্গে দোহার সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিল সাইফুল্লা কসুরি। যে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত। ফয়জলের দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে হামাসের তরফ থেকে উপস্থিত ছিল খালেদ মাসাল।
এখানেই শেষ নয়, দুই জঙ্গি সংগঠনের গলাগলির পর দফায় দফায় পাকিস্তানে আসে হামাস নেতারা। যে ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। লস্করের দাবি অনুযায়ী অন্তত ১৫ বার পাকিস্তানে আসে হামাস নেতারা। ২০২৬ সালের শুরুতেই হামাস কমান্ডার নজি জাহির এবং লস্কর কমান্ডার রশিদ আলি সান্ধুর বৈঠক হয়েছিল পাকিস্তানের গুজরনওয়ালায়। পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (পিএমএমএল)-এর ছত্রছায়ায় হয়েছিল সেই বৈঠক। সেই বৈঠকের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে জাহির এবং সান্ধুকে একই মঞ্চে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাটি বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদীদের ‘আঁতুড়ঘর’! যে কারণে ‘ধূসর তালিকা’-তেও ঢুকতে হয়েছিল তাদের। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া হোক কিংবা জঙ্গি শিবির গড়তে নিজেদের মাটিকে ব্যবহার করতে দেওয়া- ইসলামাবাদ সত্যিই জঙ্গিদের ‘স্বর্গ’! তাৎপর্যপূর্ণভাবে হামাস ও লস্কর দুই সংগঠনকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তাদের নাকের তলাতেই এবার জোট বাঁধল লস্কর-এ-তইবা ও হামাস।
