দেরিতে সক্রিয় হয়েছিল মৌসুমি বায়ু। খরার আশঙ্কা করেছিল বিশেষজ্ঞদের একাংশ। যদিও জুলাই পড়তেই বৈভব সূর্যবংশীর মতো চালিয়ে খেলছে বর্ষা, সে এতখানি যে বন্যায় ভাসছে অসম। এই অবস্থায় একদিনে রেকর্ড বৃষ্টির সাক্ষী হল গুজরাটের বলসাড জেলার উমরগামে। যেখানে কোথাও ১১ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হলেই অতিভারী বর্ষণ হয়েছে ধরা হয়, সেখানে উমরগামে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১০৬৪ মিলিমিটার। অতি বৃষ্টিপাতে কার্যত মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিকে চ্যালেঞ্জ করছে গুজরাটের অজ্ঞাত জনপদ।
দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে মেঘালয়ে। ১৯৯৫ সালের ১৬ জুন চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছিল ১,৫৬৩.৩ মিলিমিটার। এখনও পর্যন্ত সংগ্রহিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি দেশে একদিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের নজির। এর পরে থাকবে লক্ষদ্বীপের আমিনিদিভি। সেখানে ২০০৪ সালের ৬ মে তারিখে বৃষ্টি হয়েছিল ১১৬৮.৫ মিলিমিটার। এবার তৃতীয় স্থানে নিজের নাম তুলল বলসাডের উমরগ্রাম। সেখানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১,৩৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে কেবল বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০৬৪ মিলিমিটার।
এদিকে একটানা ভারী বৃষ্টি চলছে বলসাডের কাপরাড়ায়। সেখানে ১৭ জুলাই থেকে আজ অবধি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভয় ধরানো ১,৪৯৫ মিলিমিটার। এই জেলার দুশোর বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে সরানো হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও টানা বৃষ্টি চলছে সুরাটে। সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। এছাড়াও পাঁচমহল, মহিসাগর, দাহোদেওতে ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের উত্তর এবং মধ্যভাগের কয়েকটি জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি চলবে বনাসকাঁঠা, অরাবলী, সাবরকাঁঠায়। এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচোবানি খাচ্ছে প্রশাসন।
