সোমবারই লোকসভায় নতুন তৃণমূলের আত্মপ্রকাশ! এহেন জল্পনার মধ্যেই ফের দিল্লিতে বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদরা। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেই এই বৈঠক শুরু হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বৈঠকে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই আগামীর রূপরেখা তৈরি হতে পারে। শুরু তাই নয়, আজ, রবিবারই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। ইতিমধ্যে সাক্ষাত করতে চেয়ে তাঁর সময়ও চাওয়া হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা ব্লক হিসাবে ঘোষণা করার দাবি জানাতে পারেন। একইসঙ্গে পৃথক আসনের দাবিও তাঁরা জানাতে পারেন।
এদিকে বৈঠক শুরুর আগেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ''অধিকাংশ সাংসদ এবং বিধায়কই চেয়েছিলেন এই উদ্যোগটি সফল হোক। তাঁদের এই আবেদন আমাকে সত্যিই গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। তাই, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি তাঁদের সঙ্গেই থেকে যেতে পারি।" এদিকেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে সুদীপ জানান, তাঁরা চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দল এগিয়ে চলুক, যেখানে তিনি প্রধান উপদেষ্টা এবং দলীয় নেতার মতো ভূমিকা পালন করবেন।
জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব-সহ একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন। আর এই বৈঠকেই কী কী বিষয় উঠে আসতে পারে সেদিকেই নজর সবার। সূত্রের খবর, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা ব্লক হিসাবে ঘোষণা করার দাবি জানাতে পারেন। একইসঙ্গে পৃথক আসনের দাবিও তাঁরা জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে লোকসভার দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। মুখ্য সচেতক পদে আগের মতো কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার আর্জিও জানানো হতে পারে।
বিজেপি নেতার বাড়িতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা।
তবে শোনা যাচ্ছে, ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার আগে ফের বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিনইও দিল্লির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নৈশভোজের আগে ঘরোয়া বৈঠকে নিজেদের রণকৌশল নিয়েও আলোচনা করে নেবেন বিক্ষুব্ধরা। বলে রাখা প্রয়োজন, এদিন সকালে একে একে দিল্লি উড়ে যেতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল সাংসদদের। মালা রায়, দেব, সায়নী ঘোষরা বিমানবন্দরে মুখ খোলেননি। তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দিল্লি রওনা দেওয়ার আগে দাবি করেছেন, বিক্ষুব্ধ শিবিরে আর ২০ জন নেই, সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ২২।
