ভোটের ফল আর তারপর দল, এই দুই ক্ষেত্রে বিপুল বিপর্যয়ের মুখে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত সাক্ষাৎ নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সাক্ষাৎ করে এসেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। মমতা তাঁর দলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে নেবেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ২১ জুলাই নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিল প্রদেশ কংগ্রেস। শহিদ মিনারে তাদের শহিদ তর্পণের মঞ্চে রাহুল গান্ধী-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। এখন নির্বাচন নেই। এই অবস্থায় সংগঠনকে একজোট করে ২১ জুলাইয়ের মতো কংগ্রেসের তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচিতে শহিদ মিনার ভরানোর মতো শক্তি প্রদেশ কংগ্রেস দেখাতে পারলে রাহুল গান্ধী আসতেও পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
শেষবার কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁর মতো করে তো ইডি তৃণমূলনেত্রীকে হেনস্থা করেনি, ঘণ্টার পর ঘণ্টার জেরা করেনি, বাড়িও কেড়ে নেয়নি। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকারের করে যাওয়া দুর্নীতির জন্যই বঙ্গে বিজেপির আসার পথ তৈরি হয়েছে। জল্পনা তৈরি হয়েছিল, কোনও সূত্রে কালীঘাটে সেই টানাপোড়েনের ছায়ার আঁচ তবে কি তিনি পেয়েছেন! ভোটে বাংলার চিত্র বদলে যেতেই তৃণমূল পরিবার তো বটেই, কালীঘাটই এখন বিদ্ধস্ত। মমতাকে নিয়ে না হলেও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সিআইডির টানাপোড়েন তুঙ্গে। দলের মধ্যে থেকেই আলাদা ব্লক তৈরি হয়ে গিয়েছে লোকসভা-বিধানসভায়। বহু পুরনো নেতা যোগাযোগ করছেন কংগ্রেসে ফিরতে চেয়ে।
এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, তৃণমূলে যেভাবে ২১ জুলাই তাদের মঞ্চকে এক সময় ‘যোগদান মঞ্চ’ করে ফেলেছিল, সেই ছবি তাদের মঞ্চে দেখা যাবে না। দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রদেশ দপ্তর বিধানভবনের বাইরে শহিদ মিনারে ২১ জুলাইয়ের মতো কর্মসূচি করছে কংগ্রেস। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে যে শহিদ তর্পণ হবে সেটার অনেক গুরুত্ব। যথাযথ গুরুত্ব দিয়েই আমাদের শহিদ তর্পণ হবে। এআইসিসির সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গোটা রাজ্যে সংগঠন একজোট হয়ে ওই দিন ওই শহিদ তর্পণে থাকবে। কিন্তু ওই মঞ্চ কখনওই ‘যোগদান মঞ্চ’ নয়।” কংগ্রেস সকলের জন্য দরজা খুলে রেখেছে জানিয়ে শুভঙ্করের বার্তা, “বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াইয়ে যে কেউ কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। ২১ জুলাইয়ের আগেও সেটা হতে পারে, পরেও হতে পারে। তবে ওইদিন ওই মঞ্চে নয়।” রবিবার সেই শহিদ মিনারেই একটি রক্তদান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভঙ্কর। ফিরতি পথে শ্যামবাজারে জরুরি কাজ সেরে চা-টোস্ট খেয়ে গল্প করতে করতে রাস্তায় নেমে আচমকাই একটি বাসে উঠে পড়েন শুভঙ্কর। সঙ্গে থাকা কর্মীরা হকচকিয়ে যান। প্রদেশ সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে, ব্যক্তিগত বাহন থাকার পরও এভাবে বাসে কেন? তাঁর বাসে ওঠার একটি ছবি তুলেছিলেন দলের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী। জানা যায়, এদিন নিজের দুই চালককেই ছুটি দিয়েছিলেন শুভঙ্কর, তাই বাস। সেই সূত্রে দলের অনেকেই শুভঙ্করের সহজ জীবনযাত্রার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এদিন।
