ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও সরকারি কর্মচারীকে পদোন্নতি মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে না রাজ্য। এক মামলার রায়ে এমনই পর্যবেক্ষণ তেলঙ্গানা হাই কোর্টের। সম্প্রতি এই রায় দিতে গিয়ে আদালত এই প্রেক্ষিতে আগের একটি রায় বাতিল করেছে, যেখানে ‘জনস্বার্থ’-র প্রসঙ্গ তুলে এক সিনিয়র অধ্যাপককে পদোন্নতি গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই রায় ছিল ২০২৫ সালের ৭ জুলাইয়ের।
রাজ্যের দেওয়া পদোন্নতির বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন সেই অধ্যাপক। কিন্তু একক বিচারপতির রায়ে তাঁর সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে ফের তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। লিখিত আবেদন দায়ের করেন। আর তারই ভিত্তিতে সম্প্রতি তেলঙ্গানা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অপরেশকুমার সিং এবং বিচারপতি জি এম মহিউদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ আগের রায় বাতিল করে দিয়ে জানায়, ‘জনস্বার্থ’-র যুক্তিতে কখনওই কোনও সরকারি কর্মচারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি গ্রহণে রাজ্য বাধ্য করতে পারে না। সেই পদোন্নতির প্রস্তাব ‘না’ করার সব অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর রয়েছে।
‘জনস্বার্থ’-র যুক্তিতে কখনওই কোনও সরকারি কর্মচারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি গ্রহণে রাজ্য বাধ্য করতে পারে না।
ঘটনার সূত্রপাত ড. কে রবিশেখর রাওয়ের করা আবেদনকে কেন্দ্র করে। তিনি সেকেন্দ্রাবাদের গান্ধী মেডিক্যাল কলেজের অপথ্যালমোলজির সিনিয়র প্রফেসর। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই তেলঙ্গানা সরকার নির্দেশ দেয়, তাঁকে মাহাবুবাবাদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে উন্নীত করা হচ্ছে। কিন্তু সেই পদোন্নতি তিনি মানতে চাননি। তাঁর যুক্তি ছিল, গান্ধী মেডিক্যাল কলেজে পড়ান তিনি, সেই নিয়ে তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে।
পাশাপাশি তাঁর ৮৬ বছর বয়সি মায়ের শরীর-স্বাস্থ্যও ভালো নয়। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান তিনি। মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সেই সময় তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হলেও গত ১৭ মার্চের নির্দেশে তেলঙ্গানা স্টেট অ্যান্ড সাব-অর্ডিনেট সার্ভিস রুলস, ১৯৯৬-এর ১১ (খ) ধারা তুলে তেলঙ্গানা হাই কোর্ট ড. রাও-এর আবেদনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
