রাজনীতি ও আইনের গেরোয় 'তালাবন্দি' হয়েছে আত্মজীবনী 'ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি'। এই অবস্থায় বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে অন্য ভুমিকায় ভারতীয় সেনার প্রাক্তন প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। জানালেন, এখন পুরোপুরি কল্প-কাহিনি লেখায় মনোনিবেশ করেছেন তিনি। শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একটি উপন্যাস ‘দ্য ক্যান্টনমেন্ট কনস্পিরেসি’।
শুক্রবার পুনেতে ‘দ্য ক্যান্টনমেন্ট কনস্পিরেসি’ উপন্যাস প্রকাশের অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন নারাভানে। সেখানেই তিনি নিজের লেখালেখির যাত্রাপথের কথা প্রকাশ্যে আনেন। নতুন বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলেন, এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া দু’জন তরুণ সেনা আধিকারিক। এরপর আত্মজীবনী নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, "আমি বরাবর লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। শুধু সামরিক প্রতিবেদন নয়, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক জার্নালের জন্যও লিখেছি। আমার বেশকিছু ছোটগল্প পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখন শুধু কল্প-কাহিনিই লিখছি।
নারাভানে জানালেন, এখন পুরোপুরি কল্প-কাহিনি লেখায় মনোনিবেশ করেছেন তিনি। শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একটি উপন্যাস ‘দ্য ক্যান্টনমেন্ট কনস্পিরেসি’।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে নারাভানের আত্মজীবনী নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় দেশে। যদিও সেই আত্মজীবনী প্রকাশের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনওভাবেই এই বইয়ের একটি কপি বাইরে চলে আসে। সেখান থেকেই জানা যায়, স্মৃতিকথায় গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ এবং অগ্নিপথ পরিকল্পনা-সহ ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের বিশদ বিবরণ রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট রাতে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখে সেই কথোপকথনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই স্মৃতিকথায়। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে আগ্রাসন চালাচ্ছিল চিনের সেনা। কৈলাস রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতীয় পজিশন থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে চলে এসেছিল। নারাভানে লিখছেন, ‘সেসময় রাজনাথ সিং আমাকে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। এটা সেনার সিদ্ধান্ত। যা ঠিক মনে হয় তাই করুন। আমার হাতে একটা গরম আলু তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ বস্তুত নারাভানে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁকে কঠিন দোটানায় ফেলে দিয়েছিল সরকার। প্রশাসনিক স্তরে যে সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে নেওয়া উচিত ছিল, সেটাই সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সেনাপ্রধানের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের আত্মজীবনী নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক মোদি সরকারকে নাড়িয়ে দেয়। বিরোধীদের দাবি, জেনারেল নারাভানের ওই বইটিতে এমন আরও অধ্যায় আছে যা কিনা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। সেকারণেই বইটি প্রকাশ করতে দিচ্ছে না প্রতিরক্ষামন্ত্রক। কেন এতদিন ধরে বইটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? কেনই বা সংসদে ওই বইয়ের উদ্ধৃতি পড়ার সুযোগ দেওয়া হল না? এই প্রশ্নগুলি রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলছে সরকারকে। মজার কথা হল, যতদিন ধরে নারাভানের ওই স্মৃতিকথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে আটকে সেই সময় একই ধরনের ৩৫টি বই প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আটকে শুধু ওই আত্মজীবনীটিই। এই অবস্থায় নারাভানে জানালেন, বিতর্ক এড়িয়ে এখন তিনি কল্পকাহিনিতে মন দিয়েছেন।
