বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Unrest) ঘটনায় রাজ্যের আবেদনের খারিজ সুপ্রিম কোর্টে। কেস ডায়েরি হস্তান্তর নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে কোনও হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। গত কয়েকদিন আগেই এনআইএকে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে 'রিজনেবল' বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। শুধু তাই নয়, কেস ডায়েরি হাতে না পেলে কীভাবে নিরপেক্ষভাবে এনআইএ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেবে তা নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
বলে রাখা প্রয়োজন, ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙায় এক যুবকের মৃত্যুতে গত ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। উত্তেজিত জনতা পথ ও ট্রেন অবরোধ শুরু করে। ভাঙচুরও চলে। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এমনকী জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর থেকে সাংবাদিকদের মারধর, রীতিমতো দু'দিন ধরে উত্তপ্ত ছিল গোটা এলাকা। ঘটনায় কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ঘটনার পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনায় এনআইএ তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়।
সেই মামলায় বেলডাঙার ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। সেই সময় এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। যদিও কেস ডায়েরি হস্তান্তর নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। যদিও এই বিষয়ে পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশে জানায়, বেলডাঙার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের কাছে যে নথি রয়েছে, তা এনআইএ'কে হস্তান্তর করতে হবে। আর এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। শীর্ষ আদালতে রাজ্যের বক্তব্য ছিল, তাদের বক্তব্য পুরো না শুনেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে, পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সবপক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এদিন রাজ্যের এহেন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
