নেতাজি ফাইলস নিয়ে অগ্নিপরীক্ষার মুখে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার! ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনাতেই কি মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির? জাপানের রেনকোজি মন্দিরে যে চিতাভস্ম রাখা আছে, সেটা কি নেতাজিরই? এবার সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে।
আসলে সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন সুভাষ-কন্যা অনিতা বসু পাফ। ৮৪ বছরের এই অর্থনীতিবিদ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিষয়টি আর টেনে নিয়ে যেতে চান না তিনি। নরসিমা রাও সরকারের সময় জাপান থেকে সুভাষের ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেটা এবার সম্পন্ন হোক। শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে কেন্দ্রের মত জানতে চেয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানি। সেদিনই কেন্দ্রকে জানাতে হবে, নেতাজির চিতাভস্ম ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার কী ভাবছে। রেনকোজি মন্দিরে আদৌ নেতাজির চিতাভস্ম রয়েছে কিনা, সেটা নিয়েও অবস্থান জানাতে হবে সরকারকে। প্রশ্ন হল, মোদি সরকার কী করবে? ওই বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব পুরোপুরি খারিজ করে দেবে, নাকি ওই তত্ত্ব মেনে নিয়ে নেতাজির 'চিতাভস্ম' সাড়ম্বরে দেশে ফেরানো হবে, যেমনটা কোনও রাষ্ট্রনায়কের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত?
অনেকেরই বিশ্বাস, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট জাপানের একটি সেনাক্ষেত্রে (অধুনা তাইওয়ানের তাইহোকুতে) সামরিক মহড়া চলাকালীন বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সুভাষচন্দ্র। তাঁর ‘চিতাভস্ম’ বর্তমানে জাপানের রেনকোজির একটি বৌদ্ধ মন্দিরে রাখা রয়েছে। অনিতা আগেই বলেছেন, ‘‘দীর্ঘদিন নেতাজির পরিবারের অনেকেরও বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে ধন্দ ছিল। কিন্তু এখন ওই দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু নিয়ে বেশিরভাগ নথি এবং অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট হাতে এসেছে। তাই তাইপেইয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু মেনে নেওয়াই উচিত।’’ ওই চিতাভস্ম যে সুভাষেরই, তা প্রমাণে ডিএনএ নমুনা দিয়ে সাহায্য করতে তাঁর অঙ্গীকারের কথাও বলেছিলেন অনিতা।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতাজি পরিবারের অন্য সদস্যর এবং নেতাজি গবেষকদের একাংশ ওই তাইহোকু বিমানবন্দরে নেতাজির মৃত্যুর তত্ত্ব মানে না। বিভিন্ন সময় নেতাজির পরিবারের সদস্যরা সরকারকে চিঠি দিয়ে বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব উড়িয়ে চিঠিও দিয়েছেন। অতীতে যতবারই নেতাজির চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর কথা হয়েছে, প্রতিবারই পরিবারের সদস্যরা তাঁর বিরোধিতা করেছেন। সম্প্রতি নেতাজি গবেষক অনুজ ধর সোশাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, নেতাজির অন্য কোনও সহোদর ওই বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর তত্ত্ব স্বীকার করেননি। আটের দশকে ইন্দিরা গান্ধী যখন নেতাজির চিতাভস্ম ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছিলেন তখনও নেতাজির সবচেয়ে ছোট ভাই শৈলেশ বসু ইন্দিরাকে চিঠি লিখে সেটার বিরোধিতা করেছিলেন। সেই চিঠিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অনুজ। বস্তুত অনুজের মতো নেতাজি গবেষকরা ওই চিতাভস্মকে নেতাজির বলে মানতে রাজি নন।
এদিকে সম্প্রতি বাংলায় সোশাল মিডিয়ায় নেতাজিকে নিয়ে বেনজির টানাপোড়েন চলছে। শমীক ভট্টাচার্য, অনন্ত মহারাজের মতো বিজেপি সাংসদরা নেতাজিকে নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, তাতে নেতাজির অনুগামীরা ক্ষুব্ধ। সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক হচ্ছে। এই আবহে ৭ আগস্ট কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে নেতাজি নিয়ে কী অবস্থান জানায়, সেদিকে নজর থাকবে গোটা দেশের।
Advertisement
