ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেছিলেন, 'আমার নাম সায়নী ঘোষ, আমি চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব।' কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এই সায়নীই দলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান। আজ রবিবার দিল্লিতে দলের 'বেসুরো' সাংসদরা বৈঠকে বসতে চলেছেন। তার আগে রবিবার সকালে বাকিদের পাশাপাশি সায়নী ঘোষও দিল্লিতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে পৌঁছতেই তাঁকে 'চাড্ডা-চাড্ডি' মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি বলেন, "এবিষয়ে আমি আপনাদের কোনও জবাব দেব না। আমি শুধুমাত্র আমার এলাকার ভোটারদের জবাব দেব।"
কয়েকমাস আগেই আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন রাঘব চাড্ডা। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নিয়েই কটাক্ষ করে রাঘবকে 'চাড্ডি' বলেছিলেন সায়নী। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর বিদ্রোহী সাংসদের শিবিরে নাম লেখান তিনি। এরপরই তৃণমূলের সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা'র অভিযোগ তুলে তাঁকে তাঁর পুরনো মন্তব্য মনে করান দিল্লির সাংবাদিকরা। যদিও তাঁদের প্রশ্ন সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান সাংসদ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নিজের এলাকার ভোটারদেরই তিনি জবাবদিহি করবেন, আর কাউকে নয়।
তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পাশাপাশি সংসদীয় দলেও ভাঙন চওড়া হয়েছে। দলের ২০ জন সাংসদ আলাদা ব্লক করে এনডিএ-কে সমর্থন করার জন্য আবেদন করতে চলেছেন। আগামিকাল এই প্রস্তাব নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন সাংসদদের এই দল। তার আগে আজ দিল্লিতে তৃণমূলের 'বেসুরো' সাংসদরা একটি বৈঠক করবেন। সেই জন্য কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন তৃণমূলের একাধিক 'বিদ্রোহী' সাংসদ। অনেকে আবার দিল্লিতেই রয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রথমে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের ১৯ জন সাংসদ 'বিদ্রোহী' শিবিরে নাম লেখান। এরপরই এই ১৯ জনের স্বাক্ষর সংবলিত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সায়নীর সই ছিল। এই আবহে তাঁর লুক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। সাদা শাড়ি, বড় চুলের সায়নী হঠাৎ ক্যামেরার সামনে জিন্স টপে ধরা দেন। এই নিয়ে আলোচনার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ আর এক সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় 'বিদ্রোহী' শিবিরে নাম লেখান। মনে করা হচ্ছে, কাকলির পরিবর্তে সুদীপই এই 'বিদ্রোহী' ব্লককে নেতৃত্ব দিতে পারেন। অর্থাৎ সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। যদিও কাকলি রবিবার দাবি করেছেন, ২০ নয়, বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে ২২ হয়েছে।
