২০২৩ সালে সনাতন ধর্ম নিয়ে তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের বক্তব্য ছিল 'ঘৃণভাষণ'। বুধবার এই মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ। বলা বাহুল্য, আদালতের এমন পর্যবেক্ষণে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়লেন ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনপুত্র। ফের কি আইনি জটিলতায় পড়বেন তিনি?
হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ কার্যত দল ডিএমকে-কে হিন্দু বিরোধী আখ্যা দিয়েছে। আদলত জানায়, বিগত ১০০ বছর ধরে ডিএমকে "হিন্দু ধর্মের উপর সরাসরি আক্রমণ" করে আসছে। এই মন্ত্রীও (উদয়নিধি স্ট্যালিন) একই আদর্শের উত্তরসূরি। আদালত উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, অনেকেই ঘৃণাভাষণ দিয়েছেন কিন্তু তাঁরা শাস্তি হয়নি।
আদালতের বয়ান, "গত ১০০ বছর ধরে দ্রাবিড় কড়গম পরবর্তীতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কড়গম হিন্দুধর্মকে সরাসরি আক্রমণ করেছে। এই মন্ত্রীও ওই দলের লোক।" এই আদালত বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছে যে, অতীতে যারা ঘৃণাভাষণ দিয়েছেন তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উলটো পক্ষে যাঁরা ঘৃণভাষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তাঁরাই আইনের জালে ফেঁসেছে।
হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ কার্যত দল ডিএমকে-কে হিন্দু বিরোধী আখ্যা দিয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেছিলেন, “আমাদের প্রথম কাজ বিরোধিতা নয়, সনাতন ধর্মের আদর্শকে মুছে ফেলা। সনাতন প্রথা সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের বিরোধী।” তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “করোনা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির বিরোধিতা নয়, তাদের নিশ্চিহ্ন করা দরকার, তেমনই সনাতন আদর্শকেও মুছে ফেলা দরকার।” উদয়নিধির এই বক্তব্য নিয়েই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্য, পেরিয়ারের রাজনীতির সুরেই কথা বলে সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন উদয়নিধি।
যদিও উদয়নিধি পরে জানান, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা হয়েছে। তাই নিজের মন্তব্য নিয়ে মোটেই ক্ষমা চাইবেন না তিনি। বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে দেশজুড়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয় ডিএমকে নেতার বিরুদ্ধে। এর পর শীর্ষ আদালতে উদয়নিধি আবেদন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি যেন একত্রিত করে বিচার করা হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, নতুন নতুন অভিযোগ দায়ের করা যায় না। তাই আদালতের অনুমতি ছাড়া উদয়নিধির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনা যাবে না। এর মধ্যেই মাদ্রাজ হাই কোর্টের বক্তব্য অস্বস্তি বাড়ল ডিএমকে এবং উদয়নিধির স্ট্যালিনের।
