কথায় বলে, প্রসবকালীন ব্যথা ২০টি হাড়ভাঙা ব্যথার সমান। যা পৃথিবীর কষ্টকর ব্যথাগুলোর একটি। সেই যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পেতে বেনজির কাণ্ড ঘটালেন উত্তরপ্রদেশের এক যুবতী। ভয়ংকর যন্ত্রণার জেরে ছুরি দিয়ে কেটে ফেললেন নিজের পেট। গুরুতর আহত অবস্থায় ৩২ বছরের যুবতীকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। অস্ত্রপচার ছাড়াই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
বাহারাইচ জেলার বাসিন্দা ৩২ বছরের ওই যুবতীর নাম নানকাই কুমারী। স্বামীর মৃত্যু পর বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ওই যুবতীর যখন প্রসব বেদনা ওঠে সেই সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। এই অবস্থায় অসহ্য যন্ত্রনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সন্তান জন্ম দিতে ছুরি দিয়ে নিজের পেট কেটে ফেলেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওই যুবতী। এদিকে ঘরের ভিতর থেকে যুবতীর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এরপর জেলা হাসপাতাল হয়ে তাঁকে রেফার করা হয় লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে।
চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই ওই মহিলা এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান সুস্থ থাকলেও তার মায়ের অবস্থা এখনও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক
চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই ওই মহিলা এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান সুস্থ থাকলেও তার মায়ের অবস্থা এখনও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে চিকিৎসকদের তরফে। চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, মহিলার পেটে গভীর ক্ষত ও আভ্যন্তরীণ অঙ্গে গুরুতর আঘাত লেগেছে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে পরিস্থিতি এতটাও গুরুতর হত না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পাঁচ সন্তানের মা। তাঁর পরিবার আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। স্বামীর মৃত্যুর পর, তিনি একাই সন্তানদের লালন-পালন করছিলেন। গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী, ভয়, যন্ত্রণা এবং একাকীত্ব তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, যার জেরেই চরম পদক্ষেপ তিনি।
