প্রথাগত চাকরি নয়, বিকল্প পথে উপার্জনের চেষ্টা করছে জেন জি। সেই বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হল কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে রিল করে-ছবি তুলে দেদার রোজগার করছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম। এবারের বাজেটে সেই জেন জির জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। জানালেন, দেশের দেড় হাজার স্কুলে এবং ৫০০ কলেজে গড়া হবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব।
রবিবার বাজেট ঘোষণার সময়ে নির্মলা জানান, "দেশের ১৫০০টি সেকেন্ডারি স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে গড়ে তোলা হবে এবিজিসি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব। অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক্স এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই ল্যাবে।" নির্মলার ঘোষণা, এই ল্যাবের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কেবল কন্টেন্ট ক্রিয়েশন নয়, ভারতীয় জেন জির মধ্যে ডিজিটাল মিডিয়া সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়িয়ে তুলবে এই ল্যাব। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সরকারি কোনও সাহায্যের ঘোষণা করা হয়নি।
জেন জির বিকল্প আয়ের পথ হিসাবে আরও একটি ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, দেশের ২০টি পর্যটন কেন্দ্রে ১০ হাজার ট্যুর গাইডকে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১২ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণে থাকবে ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট। এছাড়াও পর্যটনের ক্ষেত্রে জেন জি'র সুবিধার্থে বিশেষ ঘোষণা করেছেন নির্মলা। জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, আরাকু ভ্যালির মতো একাধিক পাহাড়ি এলাকায় ট্রেকিং সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি হবে। কর কমায় সস্তা হতে চলেছে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজও। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অনেকেই ট্র্যাভেল ভ্লগ বানান। পর্যটনের ক্ষেত্রে এই ছাড় এবং সুবিধা পাওয়ার ফলে তাঁদের কন্টেন্টের রিচ বাড়বে বলেই অনুমান করা যায়।
বাজেটের এই ঘোষণার পর বাংলার বিখ্যাত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলাম গুপ্তা বলেন, "নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাজ। সেটার ক্ষেত্রে যদি কিছু নিয়মাবলীর মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে মৌলিক কাজ একটু হলেও ধাক্কা খাবে।" যেহেতু কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো কাজে মৌলিকতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটাকে প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনলে কাজের স্বাতন্ত্র কতখানি বজায় থাকবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকেও সরকারের 'অস্ত্র' হিসাবে ব্যবহার করা হবে না তো?
