ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান-চিনের মতো দেশ। গত বছরের যুদ্ধের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের নবম বাজেটে সামরিক ক্ষেত্রকে বাড়তি গুরুত্ব দিল কেন্দ্র। দেশের ইতিহাসে সামরিক খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ করা হল ২০২৬ সালের বাজেটে। গত বছর সামরিক খাতে যেখানে ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল সেটাই চলতি বছরে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি। অর্থাৎ এক বছরে ১৫ শতাংশ বাড়ল সামরিক বাজেট। যদিও বাজেট ভাষণে সামরিক ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি একটি শব্দও খরচ করেননি নির্মলা।
সামরিক বাজেটে এবছরের বিশেষত্ব হল সেনার আধুনিকরণের লক্ষ্যে মূলধনী খাতে ব্যাপক বৃদ্ধি। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা সেটাই এই বছর ২৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২.৩১ লক্ষ কোটি। এই অর্থ প্রতিরক্ষা তহবিলে জমা থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, প্রযুক্তি ক্রয় ও সামরিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে। মনে করা হচ্ছে, এই বিপুল বরাদ্দের জেরে ১১৪টি রাফালে বিমান এবং পঞ্চম প্রজন্মের Su-57 স্টিলথ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য যে আলোচনা চলছে তা নয়া মাত্রা পাবে। এর পাশাপাশি মেক ইন ইন্ডিয়ার মাধ্যমে স্বদেশী প্রতিরক্ষা উৎপাদন আরও বাড়ানোর দিকে জোর দেবে সরকার। বাজেটে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকেও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হবে যাতে অস্ত্র উৎপাদনে ভারতকে অন্য দেশের উপইর নির্ভরশীল হতে না হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে যুদ্ধে মেতে রয়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। ভারতও তার বাইরে নেই। পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে দীর্ঘ শত্রুতা রয়েছে ভারতের। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও বেড়েছে ভারত বিরোধীতা। গোটা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে সামরিক খাতে শেষ কয়েক বছর ধরে লাগাতার বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে সরকার। রিপোর্ট বলছে, ২০১৫-১৬ সালে দেশের সামরিক বাজেট যেখানে ছিল মাত্র ৮৩ হাজার ৬১৪ কোটি ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে ২০২৬-২৭ সালে সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, দেশের মোট বাজেটের একটা বড় অংশ যায় সামরিক বাজেটে। ২০২৩ সালে সামরিক বাজেটের পরিমাণ ছিল মোট বাজেটের ২.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে আবার সামরিক বাজেট বৃদ্ধি হলেও তার বড় অংশ ব্যয় হয় সেনাকর্মীদের পেনশন দিতে। রিপোর্ট বলছে, ২০২৬-২৭ সালে সামরিক খাতে পেনশন বাবদ সরকারের খরচ হবে ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকা।
