২০২৬-'২৭ সালের বাজেটকে ঐতিহাসিক বাজেট আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের ভূয়ষী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্মলাজির এই বাজেট ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বানাবে।"
রবিবার লোকসভায় দেড় ঘণ্টায় বাজেট বক্তৃতা শেষ করেছেন নির্মলা। তার পরেই সাধারণ জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "এই বাজেট মানুষের চাহিদার বাজেট। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যেই এই বাজেট। এতে ভারতের অর্থব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। সংস্কার নতুন গতি পাবে। এই বাজেটে মূল্যবৃদ্ধি কমানোর দিশা রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পেও নতুন দিশা দেবে। বিকশিত ভারত মজবুত হবে। আধুনিক বাস্তুতন্ত্র তৈরি হবে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে। এই বাজেট পর্যটনে উৎসাহ দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে পর্যটন বাড়বে এই বাজেটে।"
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। তা নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেছেন, "ইইউ-এর সঙ্গে চুক্তিতে দেশের যুব সম্প্রদায় এবং ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।"
ঘটনাচক্রে, নির্মলার বাজেট পেশের পর থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে শেয়ার বাজারে। অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হতেই ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্সের সূচক। ৪৮১ পয়েন্ট পড়ে যায় নিফটিও। বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই মনে করছেন, এসটিটি বেড়ে যাওয়ার ফলে লগ্নি করার উৎসাহ হারাবেন আমজনতা। এছাড়াও মূলধনী মুনাফার উপর কর বসানোরও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তারপর থেকেই শেয়ার বাজারে সূচকের পতন শুরু হয়। খানিক পরে অবশ্য ৭০০ পয়েন্ট ফিরে পায় সেনসেক্স। কিন্তু প্রাথমিক প্রবণতায় স্পষ্ট যে, লগ্নিকারীদের অনেকেই খুশি নন এই বাজেটে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশই বলেন, "মূলধনী খাতে এতটাই কম ব্যয় করছেন নির্মলা, সেটা দিশাহীন।"
নির্মলার বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলে কটাক্ষ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "এই বাজেট সম্পূর্ণ গরিববিরোধী, মহিলা বিরোধী এবং কৃষকবিরোধী বাজেট। কোনও ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনও দিশা নেই।" তাঁর সংযোজন, "ঘোষণার ফুলঝুড়ি ছড়ালেও সাধারণ মানুষের জীবনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।"
