পুলিশি হেনস্থা এড়াতে আর থানায় দৌড়তে হবে না। আমজনতার হাতের মুঠোয় এখন আস্ত একটি থানা। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘স্মার্ট পুলিশিং’-এর সৌজন্যে এ বার ঘরে বসেই মিলছে ২৭ ধরনের পুলিশি পরিষেবা। সৌজন্যে, ‘ইউপি কপ’ (UP Cop) অ্যাপ। যা বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে ‘ডিজিটাল থানা’ বা ভরসার ‘সারথি’ হয়ে উঠেছে।
বিগত ন’বছরে প্রযুক্তির মেলবন্ধনে পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে যোগী সরকার। প্রশাসনের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে এফআইআর (FIR) করা থেকে শুরু করে হারানো জিনিসের অভিযোগ জানানো— সবটাই হচ্ছে অনলাইনে। তথ্য বলছে, ইতিমধ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। ২ কোটিরও বেশি এফআইআর ডাউনলোড করা হয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে। ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ডায়েরি দায়ের করেছেন।
রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কৃষ্ণ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য ছিল পুলিশি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করা। সেই উদ্দেশ্যেই এই নাগরিক পোর্টাল ও অ্যাপের আধুনিকীকরণ। এর ফলে পুলিশি ছাড়পত্র পাওয়ার সময়ও আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আগে চারিত্রিক শংসাপত্র পেতে যেখানে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন তা মেলে মাত্র ৬ দিনে। ভাড়াটে বা গৃহভৃত্যদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজও এখন অনেক দ্রুত হচ্ছে। আগে যে কাজে ২৫ দিন সময় লাগত, এখন তা সারা যাচ্ছে মাত্র ৮ দিনেই।
আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য অ্যাপটিতে রয়েছে ‘এসওএস’ (SOS) বোতাম ও লোকেশন ট্র্যাকিং সুবিধা। বিপদে পড়লে যা ব্যবহার করে দ্রুত পুলিশের সাহায্য পাওয়া সম্ভব। সব মিলিয়ে, লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে যোগীরাজ্যে পুলিশের এই ডিজিটাল রূপান্তর সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে বড়সড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
