সোনম ওয়াংচুককে এখনই মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্র। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে জানিয়ে দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সোনমকে এখন মুক্তি দেওয়া যাবে না।
গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে জেলে লাদাখের সমাজকর্মী ও গবেষক। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা ভেবেই তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠছিল। সোনমের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রকে ভাবনা-চিন্তা করতেও বলেছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি পি ভিভারালের বেঞ্চ। কিন্তু সলিসিটর জেনারেল জানিয়ে দিলেন, নিয়ম মেনে ২৪ বার সোনমের শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তাঁর হজমের সমস্যা ছিল, সংক্রমণজনিত সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন তা নেই। কেন্দ্রের দাবি, অসুস্থ সোনমের চিকিৎসা হচ্ছে এইমসে। এই সামান্য অসুস্থতার কথা ভেবে কাউকে মুক্তি দিলে সেটা ভালো উদাহরণ হবে না।
লাদাখকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে, ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল দ্রুত কার্যকর করতে হবে, লাদাখের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন চালু করতে হবে এবং লাদাখে একটির বদলে দুটি লোকসভা কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন সোনম। ম্যাগসাইসাই জয়ী ওই গবেষকের দাবি ছিল, লাদাখ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রমেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই এলাকা।
মূলত সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বেই লাদাখে গত বছর সেপ্টেম্বরে গণবিক্ষোভ সংগঠিত হয়। ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। বিক্ষোভের দ্বিতীয়দিনই ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকী, গ্রেপ্তারির পর কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটাও প্রথমে জানানো হয়নি। সেই সেপ্টেম্বর থেকেই জেলবন্দি ওই গবেষক।
