নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: কথায় বলে মাছে ভাতে বাঙালি। অথচ কেন্দ্র সরকারের মৎস্য বিভাগের অধীনে নীল বিপ্লবে স্বদেশী প্রজাতির উপর জোর দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা উপেক্ষিতই রইল। কেন্দ্রের মৎস্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে দেশীয় প্রজাতির উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্লাস্টার তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সারা দেশে যে মোট ৩৪টি ক্লাস্টার তৈরি হবে, তাতে বাংলায় পূর্ব মেদিনীপুরে শুটকি মাছের ক্লাস্টার তৈরি হবে বলেই জানানো হয়েছে। সেখানে দেশীয় প্রজাতির মাছের ক্লাস্টার তৈরির ক্ষেত্রে ওড়িশা, ত্রিপুরার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। বাংলায় মাছের চাহিদা ও জোগানের উপর নজর না দিয়ে কেন্দ্র বাংলার জন্য শুটকি ক্লাস্টার বরাদ্দ করে দায় সারল বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহলের একাংশ।
উল্লেখ্য চলতি বছরের শুরুতেই সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পে বাংলাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এই দাবি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “বাংলায় কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা মাছের উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া প্রবাদেই আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। বাংলায় কেউ গেলে প্রথমে ইলিশ মাছ, চিংড়ি দেওয়া হয়। বাংলার মানুষ এত মাছ খায়, যে পরিমাণ মাছ চাষ হয়, তাতে হয় না। আমার প্রশ্ন তাহলে বাংলার মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দ এত কম কেন?” তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মৎস্যজীবীদের জন্য যে প্রকল্প ঘোষণা করেছেন তাতে বরাদ্দ বাড়া উচিত বাংলার। কিন্তু তারপরও কেন্দ্র তাতে কর্ণপাত করেনি।
