পিছু ছাড়ছে না মমতা এবং বাম জমানার ঋণের বোঝা! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ১০০ শতাংশ নয়, এর ৮৫ শতাংশ মেটাতে চায় রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই সংক্রান্ত স্টেটাস রিপোর্ট দিয়ে এমনটাই জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কীভাবে বকেয়া টাকা (DA Case) মেটানো হবে সেই পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। আদালতের কাছে জমা দেওয়া ওই রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর তা দেওয়া হবে মোট চার কিস্তিতে। এক্ষেত্রে রাজ্যের যুক্তি, বিপুল আর্থিক বোঝা রয়েছে রাজ্যের উপর। সেই কারণেই ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বুধবারই সপ্তম পে কমিশন গঠিত হয়েছে রাজ্যে। নতুন সরকার গঠনের আড়াই মাসের মধ্যেই সরকারি কর্মীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের কর্মীদের বকেয়া ডিএ'র ১০০ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই বুধবার এই সংক্রান্ত রিপোর্ট রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া হয়। আর সেখানেই বেশ কিছুটা ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ বাবদ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিতে হবে। আর তা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিপুল এই টাকা চার ধাপে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে সরকার জানিয়েছে, প্রথম কিস্তির টাকা জুলাই মাস দিয়েও দেওয়া হয়েছে।
এই সংক্রান্ত হিসাবও সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, সরকার বকেয়া ডিএ-র ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা হিসাবে তা মেটানো হয়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। ওই বছরেই মেটানো হবে তৃতীয় কিস্তির টাকা। আর তা মেটানো হবে আগামী জুলাই মাসে। চতুর্থ কিস্তির টাকা দেওয়া হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে। অন্তত এমনটাই রাজ্য সরকারের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে। বকেয়া ডিএ কেন চার কিস্তিতে রাজ্য দিতে চায়, তাও সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করেছেন রাজ্যের আইনজীবী।
এদিকে বুধবারই সপ্তম পে কমিশন গঠিত হয়েছে রাজ্যে। নতুন সরকার গঠনের আড়াই মাসের মধ্যেই সরকারি কর্মীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
