বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন স্ত্রী'কে খোরপোশ দেওয়া স্বামীর নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। এটা কোনও দয়া-দাক্ষিণ্য নয়। এক খোরপোশ মামলায় সাফ জানিয়ে দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বামীর মোট আয়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ খোরপোশ পাওয়া স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে পড়ে। এক খোরপোশ মামলায় আদালত সাফ বলে দিল, স্ত্রী বা কোনও মহিলা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হন তাহলে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া স্বামীর পবিত্রতা ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর ডিসেম্বর মাসে সুরেশ চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি এলাহাবাদ হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। নিম্ন আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, প্রতি মাসে খোরপোশ বাবদ ৩ হাজার টাকা দিতে হবে ওই ব্যক্তিকে। আগে মাসে মাত্র ৫০০ টাকা খোরপোশ বাবদ প্রাক্তন স্ত্রীকে দিতেন তিনি। রাতারাতি সেটা ৬ গুণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তি এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেন। ওই ব্যক্তির দাবি ছিল, তিনি পেশায় দিনমজুর। তাঁর পক্ষে মাসে ওই টাকা মেটানো সম্ভব নয়।
কিন্তু এলাহাবাদ হাই কোর্ট ওই ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি মদন পাল সিং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আবেদনকারী শারীরিকভাবে অক্ষম, এমন কোনও দাবি করা হয়নি। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এই অবস্থায় স্ত্রীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আদালত সাফ বলছে, যে মহিলার নিজস্ব কোনও আয় নেই, তিনি খোরপোশ বাবদ প্রাক্তন স্বামীর কাছে তাঁর আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। সেই মতো এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ, প্রতি মাসে স্ত্রীকে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে সুরেশকে। কারণ সুরেশ মাসে ১৮ হাজার টাকা আয় করেন।
ইদানিং এই খোরপোশ নিয়ে নানারকম বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। খোরপোশ আইনের অবব্যবহার নিয়েও বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। এই আবহে এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
