সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরে দূরত্ব ঘুচেছে। 'মহারাষ্ট্রের স্বার্থে' ফের জোট বেঁধেছেন কাকা-ভাইপো। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন অন্য সমীকরণের ইঙ্গিত। ২০২৬-এ পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়েতে ২৯টি পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। সেখানেই একজোট হয়ে লড়বেন শরদ পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ার। আর তাই শুক্রবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার বলেছেন, "জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) দুই গোষ্ঠীর কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হতে চান। এবং পাওয়ার পরিবারের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে।"
'উভয় দলের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হতে চান', এই বার্তা দিলেও তিনি মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) গোষ্ঠীর যোগদান এবং মন্ত্রী হিসাবে কাকার দায়িত্ব গ্রহণের গুজবকেও উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, "যারা এই ধরনের গুজবে খুশি, তারা এ নিয়ে কথা বলুক।"
কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। বিজেপির হাত ধরে জয়। এবং শেষে ফের কাকার সঙ্গে সমঝোতা। এনসিপি-র দুই শিবিরেরই যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। ২০২৩ সালের ২ জুলাই। কাকা শরদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধেন ভাইপো অজিত। একনাথ শিন্ডের শিব সেনা এবং বিজেপির জোট সরকারের শরিক হয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন। ভেঙে তছনছ হয়ে যায় এনসিপি। অধিকাংশ বিধায়কই ধীরে ধীরে শরদকে ছেড়ে অজিতের হাত ধরেন। দল শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সেই নিয়ে বিবাদ তুঙ্গে ওঠে। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনসিপি-র নিয়ন্ত্রণ যায় অজিতের হাতেই। নির্বাচনী প্রতীকও বদলে যায়। ঘড়ি-র দখল পান অজিত। শরদকে দেওয়া হয় তুতারি (মহারাষ্ট্রের বাদ্যযন্ত্র)। তবে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কামাল দেখান শরদই। ৮টি আসনে জেতে তাঁর দল। অন্যদিকে অজিতের দখলে যায় মাত্র ক'টি আসন। শরদ পাওয়ারের মেয়ে লোকসভার সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও জানিয়েছেন যে, দলীয় কর্মীদের দাবিতে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় নির্বাচনের জন্য এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী একসঙ্গে লড়বে।
একই সঙ্গে ঠাকরে ভাইদের কটাক্ষ করেছেন অজিত। বলেছেন, "রাজ ঠাকরের বক্তৃতা একটা মিমিক্রি শোয়ের মতো। এটি অল্প সময়ের জন্য বিনোদন দেয়। কিন্তু তা দিয়ে কিছুই অর্জন করা যায় না। রাজ এবং উদ্ধব, উভয়েই সফল হবেন না।" সব মিলিয়ে, পুরসভা নির্বাচনের মুখে পাওয়ার পরিবারের এই 'পুনর্মিলন' ও জোট রাজনীতি মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
