স্টাফ রিপোর্টার: রবিবার সন্ধ্যায় শান-এ-মহামেডানের স্মারক হাতে নিয়ে সমর্থকদের একের পর এক সেলফির আবদার মিটিয়ে যাচ্ছিলেন আবদুল খালেক। অন্যদিকে, আরেক প্রাক্তন অতনু ভট্টাচার্যও আলোকোজ্জ্বল সাদা-কালো তাঁবুর দিকে তাকিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়ে বলছিলেন, “আমাদের সময় এমন তাঁবু ছিল না। এখন অন্য দুই প্রধানের থেকেও সুন্দর এই মহামেডান তাঁবু। এখানে খেলতে খেলতেই তো এশিয়ান অলস্টারে সুযোগ পেয়েছিলাম। এখনও যে কর্তারা আমার কথা মনে রেখেছেন, ভাবতেই ভালো লাগছে।” খালেক আবার বলছিলেন, “আমি নাগপুর চলে গেলেও ক্লাবের সব খবর রাখি। সমর্থকদের এই উন্মাদনার কথা ভাবলে আজও খেলোয়াড় জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। এবার হয়তো আইএসএলে ভালো ফল হল না। দেখবেন আগামী মরশুমে ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে মহামেডান।”

প্রতিবছর ইফতার পার্টির দিন শান-এ-মহামেডান সম্মান প্রদান করে মহামেডান ক্লাব। এবার ক্লাবের দুই প্রাক্তন অতনু ভট্টাচার্য ও আবদুল খালেকের হাতে তুলে দেওয়া হল এই সম্মান। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্লাব তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত-সহ মহামেডান শীর্ষ কর্তারা।
এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী দুই প্রাক্তনের হাতে তুলে দিলেন স্মারক। অতনু-খালেকদের হাতে সম্মান তুলে দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “বাংলার মাটিতে কোনওরকম জাতিভেদ নেই। মহামেডান ক্লাব সবসময় সেই সম্প্রীতি রক্ষা করে সেই বার্তাই দিয়ে এসেছে। প্রাক্তনদের এভাবে সম্মান জানানোয় বোঝা যায় অতীতকে ওরা ভুলে যায়নি।” মহামেডানের অনুষ্ঠান হলেও এই অনুষ্ঠানে মহামেডানের কোনও ইনভেস্টর কর্তাদের চোখে পড়েনি। যদিও সোমবার বিকালে আবার শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে ক্লাব-ইনভেস্টরের আইনজীবীদের মধ্যে আরেক দফা আলোচনা হতে চলেছে।
এদিন কর্তা, সদস্যদের সঙ্গে ইফতারে যোগ দেন অরূপ বিশ্বাস, বাবুল সুপ্রিয়রাও। ক্লাব সভাপতি আমিরুদ্দিন ববি বলেন, “প্রতিবারই আমরা এই ইফতার পার্টির দিন শান-এ-মহামেডান সম্মান তুলে দিই। গতবার এই সম্মান দিতে পারিনি। এবার যে দুজনকে দেওয়া হল তাঁরা এই ক্লাবের হয়ে অনেক জয় উপহার দিয়েছে। আমরা তাঁদের সম্মান জানাতে পেরে খুশি।” অতনু-খালেকদের হাতে ক্লাবের তরফ থেকে পুষ্পস্তবক, দুজনের নাম লেখা জার্সি ও পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে দেন আমিরুদ্দিন ববিরা।